কুমিল্লা কেন্দ্রীয় সমবায় ব্যাংকের নেতৃত্ব দখলের চেষ্টা করছেন বিএনপি নেতা, অভিযোগ বর্তমান সভাপতির

রাজনীতি ডেস্ক: কুমিল্লা কেন্দ্রীয় সমবায় ব্যাংক লিমিটেডের বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ বাতিল করে জোরপূর্বক নতুন কমিটি গঠনের পাঁয়তারা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি নগরীর কান্দিরপাড় এলাকায় ব্যাংক মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানান ব্যাংকের বর্তমান সভাপতি অ্যাডভোকেট কাজী নাজমুস সা’দাত। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে দলীয় নেতাকর্মীদের আইনি সহায়তা দিয়ে আসছেন বলে জানান। অথচ একটি মহল তাঁকে বিতর্কিত করার উদ্দেশ্যে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নেতৃত্ব দখলের ষড়যন্ত্র করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। সংবাদ সম্মেলনে ব্যাংকের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সিরাজুল হকসহ পর্ষদের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে সভাপতি আরও অভিযোগ করেন যে, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি আমিরুজ্জামান আমির এই অপচেষ্টার নেতৃত্ব দিচ্ছেন এবং ব্যাংকের শীর্ষ পদ দখল করতে চাইছেন। কিন্তু ব্যাংকের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি ব্যাংক বা এর অধীন সমিতির সদস্য না হলে পরিচালনা পর্ষদে আসার সুযোগ রাখেন না। অথচ রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তাঁকে বেআইনিভাবে অপসারণের চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে দাবি করা হয়। এই ধরনের অবৈধ হস্তক্ষেপ করা হলে তিনি বাধ্য হয়ে আদালতের শরণাপন্ন হবেন বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেন। এছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে আনীত সকল অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান তিনি।

তদন্তে কোনো অভিযোগ প্রমাণিত হলে যেকোনো শাস্তি মাথা পেতে নেবেন বলে প্রত্যয় ব্যক্ত করেন কাজী নাজমুস সা’দাত। তিনি জানান, বিভিন্ন দপ্তরে তাঁর বিরুদ্ধে যে অভিযোগপত্র পাঠানো হয়েছে, সেখানে স্বাক্ষরকারী ২৬ জনের কেউই এই ব্যাংকের বা এর অধীন কোনো সমিতির সদস্য নন। কেটিটিসি লিমিটেডের সভাপতি শাহজাহান সিরাজের মাধ্যমে এসব ভিত্তিহীন অভিযোগ বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানো হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। এই বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে তিনি ইতোমধ্যেই সরকারের উচ্চপর্যায়ে লিখিত আবেদন জানিয়েছেন। ব্যাংকের সম্পত্তি ও উন্নয়ন কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করতেই এই ষড়যন্ত্র চলছে বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়।

ব্যাংকের ঐতিহ্য ও সম্পত্তি তুলে ধরে সভাপতি জানান, ১৯১৩ সালে প্রতিষ্ঠিত এই সমবায় ব্যাংকটি বর্তমানে ১৭৪টি সমবায় সমিতির মালিকানাধীন রয়েছে। কান্দিরপাড় এলাকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ব্যাংকের প্রায় ৩৫ শতক জমি রয়েছে যেখানে জরাজীর্ণ ভবনগুলো ভেঙে নতুন বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ব্যাংকের নিজস্ব পর্যাপ্ত তহবিল না থাকায় সমবায় অধিদপ্তরের অনুমতি সাপেক্ষে ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এই বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এ বিষয়ে সমবায় অধিদপ্তর ইতোমধ্যে একটি উচ্চপর্যায় কমিটি গঠন করেছে এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীও এই প্রকল্পে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। মূলত ব্যাংকের এই মূল্যবান সম্পত্তির নিয়ন্ত্রণ নিতেই একটি কুচক্রী মহল সক্রিয় হয়ে উঠেছে।

অন্যদিকে, এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি আমিরুজ্জামান আমির জানিয়েছেন যে তাঁর বিরুদ্ধে আনীত সমস্ত বক্তব্য অসত্য ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তাঁর দাবি, বর্তমান সভাপতি সমবায় সমিতির গঠনতন্ত্র না মেনে নিজস্ব প্রক্রিয়ায় নির্বাচন করে ক্ষমতায় বসেছেন এবং তাঁর নানা অনিয়মের কারণে সমবায়ীরাই অধিদপ্তরে অভিযোগ করেছেন। কমিটিতে কে থাকবে আর কে থাকবে না তা সম্পূর্ণভাবে সমবায় অধিদপ্তরের বিধিমালা ও সিদ্ধান্তের বিষয় বলে তিনি মন্তব্য করেন। এই প্রক্রিয়ায় তাঁর এককভাবে প্রভাব বিস্তারের কোনো সুযোগ নেই বলে সাফ জানিয়ে দেন তিনি।