ওয়ালটনের সোলার ইকোসিস্টেম উন্মোচন করলেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী

অর্থনীতি ডেস্ক: দেশের শিল্প খাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং কার্বন নিঃসরণ কমাতে নতুন এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে দেশীয় ইলেকট্রনিক্স জায়ান্ট ওয়ালটন। সম্প্রতি রাজধানীর বসুন্ধরায় ওয়ালটন করপোরেট অফিসে আয়োজিত এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানটির সমন্বিত ‘সোলার ইকো-সিস্টেম’ প্রযুক্তির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই পরিবেশবান্ধব ব্যবস্থার উদ্বোধন করেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এ সময় ওয়ালটনের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন এবং তারা অতিথিদের নতুন এই প্রযুক্তির বিভিন্ন দিক সম্পর্কে অবহিত করেন।

নতুন এই সোলার ইকোসিস্টেমের আওতায় নিজস্ব কারখানার ছাদ এবং ভাসমান সোলার পাওয়ার প্রকল্পের মাধ্যমে ৩২ মেগাওয়াট সক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করছে ওয়ালটন। উৎপাদিত এই বিদ্যুতের একটি বড় অংশ কারখানার দৈনন্দিন উৎপাদনে ব্যবহারের পাশাপাশি নেট মিটারিং ব্যবস্থার মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডেও সরবরাহ করা হচ্ছে। এর ফলে একদিকে যেমন শিল্প কারখানার জ্বালানি খরচ উল্লেখযোগ্য হারে কমছে, অন্যদিকে জাতীয় গ্রিডের ওপর পরনির্ভরশীলতাও হ্রাস পাচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির এ ধরনের উদ্যোগ দেশের সামগ্রিক বিদ্যুৎ খাতে এক ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে শুরু করেছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে অতিথিরা ওয়ালটনের উৎপাদিত বিভিন্ন সৌরবিদ্যুৎ চালিত পণ্য ও প্রযুক্তি ঘুরে দেখেন। সোলার প্যানেল, ইনভার্টার, ব্যাটারির পাশাপাশি সোলার হাইব্রিড প্রযুক্তির এসি, ফ্রিজ ও স্মার্ট টিভি দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী। বিশেষ করে সৌরবিদ্যুৎ ও গ্রিড বিদ্যুতের সমন্বিত ব্যবহারের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের এই সুযোগ তৈরির জন্য তিনি ওয়ালটনের ভূয়সী প্রশংসা করেন। মন্ত্রী বলেন, এই ধরনের উদ্যোগ দেশের জ্বালানি আমদানি হ্রাসের পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ওয়ালটনের শীর্ষ নির্বাহীরা জানান, এই ইকোসিস্টেম শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদন নয়, বরং গৃহস্থালির দৈনন্দিন কাজে ব্যবহৃত সব ধরনের অ্যাপ্লায়েন্স সৌরশক্তির আওতায় নিয়ে এসেছে। হাইব্রিড প্রযুক্তির কল্যাণে পর্যাপ্ত সূর্যালোক না থাকলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে জাতীয় গ্রিড থেকে প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত হয়। এ ছাড়া এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেম বা ইএসএস প্রযুক্তির মাধ্যমে ওয়াশিং মেশিন, ওভেন, রাইস কুকার এবং ইলেকট্রিক কুকারের মতো ভারী যন্ত্রপাতিও সৌরশক্তিতে চালানো সম্ভব। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সবুজ ও আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশ গড়ে তুলতে এই প্রযুক্তি অত্যন্ত কার্যকরী হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তারা।