সারাদেশ ডেস্ক: কয়েক দশক আগেও কুমিল্লা শহরটি তার শান্ত ও স্বস্তিদায়ক পরিবেশের জন্য দেশজুড়ে পরিচিত ছিল। নানা ঐতিহাসিক ঐতিহ্য এবং সাংস্কৃতিক খ্যাতির কারণে এই জনপদটি আলাদা পরিচিতি লাভ করেছিল। সে সময় শহরের অলিগলি থেকে শুরু করে প্রধান সড়কগুলোতে বর্তমানের মতো বিশৃঙ্খলা ছিল না। এখানকার স্থানীয় বাসিন্দারা এক ধরনের স্নিগ্ধ ও নিরিবিলি জীবনযাপন করতেন, যা এই অঞ্চলের প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল।
ঐতিহাসিকভাবে কুমিল্লা একসময় ব্যাংক ও ট্যাংকের শহর হিসেবে পরিচিত ছিল। শহরের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে থাকা অসংখ্য জলাশয় বা ট্যাংক এই শহরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিত। এর পাশাপাশি শিল্প ও সংস্কৃতির উর্বর ভূমি হিসেবেও এই অঞ্চলের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস রয়েছে। কিন্তু সময়ের বিবর্তনে অপরিকল্পিত নগরায়ণ এবং আধুনিকায়নের নামে সেই ঐতিহাসিক বৈশিষ্ট্যগুলো আজ প্রায় বিলীন হয়ে গেছে।
বর্তমান সময়ে এই শহরটির সামগ্রিক চিত্র সম্পূর্ণ বদলে গেছে। ঐতিহাসিক সেই জলাশয়গুলো ভরাট হয়ে যাওয়ার কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই শহরজুড়ে তীব্র জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এছাড়া অতিরিক্ত জনসংখ্যা এবং যানবাহনের চাপের ফলে শহরের প্রতিটি প্রধান সড়কে এখন নিয়মিত যানজট লেগে থাকে। সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াত এখন চরম দুর্ভোগের মুখে পড়েছে।
এককালের সেই শান্তিময় পরিবেশ হারিয়ে যাওয়ার ফলে বর্তমান প্রজন্মের বাসিন্দারা এক অতি যান্ত্রিক ও অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন। যত্রতত্র বহুতল ভবন নির্মাণ এবং জলাধার রক্ষার কার্যকর উদ্যোগের অভাবে শহরটির পরিবেশ দিন দিন নষ্ট হচ্ছে। কুমিল্লার পুরোনো ঐতিহ্য ও স্বাচ্ছন্দ্য ফিরিয়ে আনতে এখন কার্যকর ও টেকসই পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।