ইচ্ছাকৃতভাবে বিরোধী দলকে সংবিধান সংস্কার প্রক্রিয়া থেকে বাইরে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে: পরওয়ার

রাজনীতি ডেস্ক: রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে সংবিধান সংস্কার প্রক্রিয়ার পদ্ধতি নিয়ে। সম্প্রতি রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত নিজ দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলন করেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। সেখানে তিনি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিযোগ করেন যে, একটি নির্দিষ্ট পরিকল্পনা অনুযায়ী দেশের প্রধান বিরোধী দলগুলোকে সংবিধান সংস্কারের মতো গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় কার্যক্রম থেকে দূরে রাখা হচ্ছে। বর্তমান সরকার তাদের কর্তৃত্ববাদী মনোভাব বজায় রাখতেই এমন একপেশে পথ বেছে নিয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের এই শীর্ষ নেতা আরও স্পষ্ট করেন যে, তাঁদের দল চায় গণভোটের রায় পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে। পাশাপাশি, অনুমোদিত আইনি কাঠামো ও সংবিধান সংস্কার পরিষদের মাধ্যমেই কেবল রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ এই দলিলের প্রয়োজনীয় সংশোধন সম্ভব বলে তিনি মত দেন। কিন্তু বর্তমান প্রশাসন সেই গণতান্ত্রিক পথ এড়িয়ে নিজেদের মতো করে সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করতে চাইছে। তিনি হুশিয়ারি উচ্চারণ করে জানান যে, চিরদিন ক্ষমতায় টিকে থাকার এমন ফ্যাসিবাদী মানসিকতা দেশের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক পরিণতি ডেকে আনতে পারে। এই ধরনের জটিল রাজনৈতিক সংঘাত রাজপথে না ছড়িয়ে জাতীয় সংসদে আলোচনার মাধ্যমে মীমাংসা করার ওপরও তিনি বিশেষ জোর দেন।

রাজনৈতিক বিষয়ের পাশাপাশি দেশের কৃষি খাতের ভঙ্গুর চিত্র ও সারের বাজারে চলা চরম নৈরাজ্য নিয়ে কড়া সমালোচনা করেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল। তাঁর ভাষ্যমতে, দেশজুড়ে সার বিতরণ ব্যবস্থা এবং ডিলার নিয়োগ কার্যক্রমে ব্যাপক দুর্নীতি, অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতি চলছে। কৃষিমন্ত্রীর নির্দিষ্ট দায়িত্ব থাকা সত্ত্বেও অন্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এ বিষয়ে অযাচিত বক্তব্য দিচ্ছেন, যা সরকারের ভেতরে জেঁকে বসা কর্তৃত্ববাদী মানসিকতারই বহিঃপ্রকাশ। অব্যবস্থাপনা, কালোবাজারে সার পাচার এবং আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে রাজনৈতিক বিবেচনায় ডিলার নিয়োগের কারণে আজ কৃষকরা মারাত্মক সংকটের মুখে পড়েছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।

সার সংকটের এই নেপথ্য কারণগুলো তুলে ধরার পাশাপাশি ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় পূর্ণ স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনার জোরালো দাবি জানান মিয়া গোলাম পরওয়ার। ডিলারশিপ দেওয়ার নামে আর্থিক দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে সংশ্লিষ্টদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনার জন্য তিনি প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান। সংবাদ সম্মেলনে ডিলারদের তালিকা ও লাইসেন্স দেওয়ার সুনির্দিষ্ট মানদণ্ড জনসমক্ষে প্রকাশের দাবিও জানানো হয়। এই সংকট নিরসনে ছয় দফা সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব পেশ করে জামায়াতে ইসলামী, যার মধ্যে দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের নিকট থেকে লিখিত ব্যাখ্যা চাওয়ার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। উক্ত সংবাদ সম্মেলনে দলটির অন্যান্য কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও শীর্ষস্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।