‘সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন পরিষদ’ গঠন করবে বিরোধী জোট

ইপেপার / প্রিন্ট ইপেপার / প্রিন্ট
২

রাজনীতি ডেস্ক: জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন নিয়ে সরকারের সঙ্গে চলমান মতবিরোধের প্রেক্ষাপটে এবার নিজস্ব উদ্যোগে একটি বিশেষ কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। এই জোটের পক্ষ থেকে ‘সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন পরিষদ’ নামের একটি কমিটি গঠন করা হবে, যা গণভোটের রায় এবং রাষ্ট্রপতির আদেশের আইনি দিকগুলো গভীরভাবে বিশ্লেষণ করবে। পাশাপাশি সংস্কার কার্যক্রম কীভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব তৈরি করার কাজ করবে এই নতুন পরিষদ। সরকারের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না দেখায় বিরোধী জোট এই বিকল্প পথ বেছে নিয়েছে বলে জানা গেছে।

প্রস্তাবিত এই কমিটির সদস্যসংখ্যা এবং কাঠামো এখনো চূড়ান্ত না হলেও প্রাথমিক পর্যায়ে ১০ থেকে ১৫ জন সদস্য নিয়ে এটি গঠনের আলোচনা চলছে। এই কমিটিতে জামায়াতে ইসলামী থেকে তিন থেকে চারজন এবং ১১ দলীয় জোটের অন্যান্য শরিক দলগুলোর পক্ষ থেকে একজন করে প্রতিনিধি রাখার প্রাথমিক পরিকল্পনা করা হয়েছে। সংসদ সদস্য ছাড়াও সংসদের বাইরে থাকা অভিজ্ঞ রাজনৈতিক নেতাদের এই কমিটিতে যুক্ত করা হতে পারে। তবে সামগ্রিক বিষয়টি নিয়ে জোটের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে ধারাবাহিক আলোচনা চলছে এবং খুব দ্রুতই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

- Advertisement -

কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া সম্পর্কে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের জানিয়েছেন যে সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন পরিষদ গঠনের বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত আগেই নেওয়া হয়েছে। লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠকের মাধ্যমে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রস্তাব তৈরি করে তা জোটের শীর্ষ নেতাদের কাছে উপস্থাপন করা হবে। তাদের অনুমোদন সাপেক্ষে সংবাদ সম্মেলন করে আনুষ্ঠানিকভাবে এই কমিটির নাম ও কর্মপরিকল্পনা প্রকাশ করা হবে। বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরানও এই খসড়া তৈরির প্রক্রিয়া চলমান থাকার কথা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে দলগুলোর শীর্ষ নেতারাই এর চূড়ান্ত রূপ ঠিক করবেন।

মূল কমিটির পাশাপাশি বিভিন্ন পেশাজীবী ও বিশেষজ্ঞদের নিয়ে কয়েকটি উপকমিটি গঠনেরও পরিকল্পনা রয়েছে বিরোধী জোটের। এসব উপকমিটির সংগৃহীত বিশেষজ্ঞ মতামতের ভিত্তিতে মূল কমিটি তাদের সুপারিশ চূড়ান্ত করবে। এছাড়া ১১ দলীয় জোটের বাইরে জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষরকারী রাজনৈতিক দল এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিদের সঙ্গেও আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। সরকারের বর্তমান অবস্থানের বিকল্প হিসেবে বিরোধী জোট বৃহত্তর জাতীয় ঐকমত্য গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এই বহুমুখী রাজনৈতিক তৎপরতা পরিচালনা করছে।

এই বিভাগের আরও সংবাদ