মাশরুম চাষ কি বাড়ছে, এটিই কি ব্যাঙের ছাতা?

ইপেপার / প্রিন্ট ইপেপার / প্রিন্ট
৪

স্বাস্থ্য ডেস্ক: বাংলাদেশে প্রাকৃতিকভাবে যত্রতত্র বা আর্দ্র স্থানে জন্ম নেওয়া বিভিন্ন উদ্ভিদকে সাধারণ মানুষ মাশরুম হিসেবে ভুল করে থাকেন। বর্ষাকালে বা স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে মাশরুমের মতো দেখতে এই জীবগুলো মূলত এক ধরণের ছত্রাক, যাকে প্রচলিত ভাষায় ব্যাঙের ছাতা বলা হয়ে থাকে। গবেষক ও কৃষিবিজ্ঞানীদের মতে, দেখতে হুবহু একরকম হলেও সব ব্যাঙের ছাতা খাওয়ার উপযোগী নয় এবং এর বড় একটি অংশ বিষাক্ত হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাকৃতিকভাবে গজিয়ে ওঠা ব্যাঙের ছাতা এবং বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদিত পুষ্টিকর মাশরুমের মধ্যে জৈবিক ও গঠনগত দিক থেকে বেশ কিছু দৃশ্যমান ও সূক্ষ্ম পার্থক্য রয়েছে। বুনো পরিবেশে জন্মানো ছত্রাকগুলোর অনেক সময় ক্ষতিকর রাসায়নিক বা বিষাক্ত উপাদান বহন করে, যা মানবদেহের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। অন্যদিকে, বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে উৎপাদিত মাশরুম সম্পূর্ণ নিরাপদ এবং এতে মানবদেহের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান ও ভিটামিন থাকে।

- Advertisement -

দেশে সম্প্রতি পুষ্টিকর খাবার হিসেবে মাশরুমের জনপ্রিয়তা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেলেও সাধারণ মানুষের মধ্যে এ নিয়ে এখনও পরিষ্কার ধারণার অভাব রয়েছে। অনেকেই না বুঝে মাঠঘাট বা পচা কাঠ থেকে বুনো ব্যাঙের ছাতা সংগ্রহ করে রান্নার চেষ্টা করেন, যা খাদ্য বিষক্রিয়ার মতো বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এ কারণে জনসচেতনতা বাড়াতে গবেষকরা বুনো ছত্রাক খাওয়া থেকে বিরত থাকার এবং কেবল বিশ্বস্ত উৎস থেকে সংগৃহীত মাশরুম খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

খাদ্যতালিকা ও কৃষিপণ্যের বাজারে মাশরুমের চাহিদা বাড়ার সাথে সাথে এর সঠিক পরিচিতি ও চাষ পদ্ধতি নিয়ে সচেতনতা তৈরির তাগিদ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। বুনো ব্যাঙের ছাতা এবং চাষকৃত মাশরুমের পার্থক্য বুঝতে না পারলে জনস্বাস্থ্যের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থেকেই যায়। তাই এ বিষয়ে সাধারণ মানুষকে আরও বেশি সতর্ক হওয়ার পাশাপাশি সঠিক তথ্য জেনে তবেই মাশরুম গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।

এই বিভাগের আরও সংবাদ