মাথাপিছু জিডিপিতে ভারতের চেয়ে এগিয়ে বাংলাদেশ

ইপেপার / প্রিন্ট ইপেপার / প্রিন্ট
৩

অর্থনীতি ডেস্ক: আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সাম্প্রতিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছরে মাথাপিছু মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) প্রতিবেশী দেশ ভারতকে ছাড়িয়ে যাওয়ার পথে রয়েছে বাংলাদেশ। আন্তর্জাতিক এই সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এ বছর বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের মাথাপিছু জিডিপি ২ হাজার ৮৮৬ ডলারে পৌঁছাতে পারে, যেখানে ভারতের ক্ষেত্রে এই পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ২ হাজার ৭৪৯ ডলারে। এর ফলে মাথাপিছু এই সূচকে ভারতের চেয়ে প্রায় ১৩৭ ডলারে এগিয়ে থাকবে বাংলাদেশ। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। তবে এই পরিসংখ্যানে এগিয়ে থাকা মানেই সামগ্রিক অর্থনীতিতে বাংলাদেশ ভারতের চেয়ে এগিয়ে গেছে, এমনটি নয়। কারণ দুই দেশের অর্থনীতির আকার ও অন্যান্য সূচকে রয়েছে বিশাল পার্থক্য।

আইএমএফের ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় সাড়ে ১৭ কোটি জনসংখ্যার বাংলাদেশের অর্থনীতির মোট আকার ২০২৬ সালের মধ্যে ৫০৬ বিলিয়ন ডলার ছাড়াতে পারে। অন্যদিকে, ভারতের অর্থনীতির সামগ্রিক আকার প্রায় ৪ দশমিক ১৫ ট্রিলিয়ন ডলার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা বাংলাদেশের তুলনায় প্রায় আট গুণ বড়। তবে সামগ্রিক অর্থনীতির আকার অনেক ছোট হওয়া সত্ত্বেও জনসংখ্যা ও মোট উৎপাদনের আনুপাতিক হারে মাথাপিছু জিডিপিতে বাংলাদেশ এগিয়ে রয়েছে। তাছাড়া ক্রয়ক্ষমতার সমতা বা পিপিপি এবং মূল্যস্ফীতির দিক বিবেচনা করলে চিত্রটি ভিন্নরূপ নেয়। পিপিপি সূচকে স্থানীয় বাজারে পণ্য ও সেবার দামের তারতম্যের কারণে ভারতের নাগরিকদের গড় ক্রয়ক্ষমতা বাংলাদেশের মানুষের তুলনায় কিছুটা বেশি।

- Advertisement -

অর্থনৈতিক অন্যান্য সূচক ও প্রবৃদ্ধির গতি পর্যালোচনায় দেখা যায়, মাথাপিছু জিডিপিতে এগিয়ে থাকলেও সার্বিক প্রবৃদ্ধির গতিতে ভারতের চেয়ে কিছুটা পিছিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। আইএমএফের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি যেখানে ৭ শতাংশ হতে পারে, সেখানে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে তা ৩ দশমিক ৬ শতাংশে দাঁড়াতে পারে। এ ছাড়া ভারতে মূল্যস্ফীতি ৫ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকার সম্ভাবনা থাকলেও বাংলাদেশে তা ৮ শতাংশের ওপরে উঠতে পারে, যা জীবনযাত্রার ব্যয়ের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে। এর আগে ২০১৮ সাল থেকে টানা সাত বছর মাথাপিছু জিডিপিতে বাংলাদেশ এগিয়ে থাকলেও পরবর্তীতে পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে। তবে ২০২৭ এবং ২০২৮ সালেও বাংলাদেশের এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে যে, বাংলাদেশের এই অর্থনৈতিক অগ্রগতির নেপথ্যে রয়েছে মূলত শক্তিশালী তৈরি পোশাকশিল্প, প্রবাসী আয় এবং কর্মক্ষেত্রে নারীদের ক্রমবর্ধমান অংশগ্রহণ। রপ্তানিমুখী উৎপাদন খাত এবং রেমিট্যান্সের ওপর ভর করে গত দুই দশকে বাংলাদেশের অর্থনীতি একটি শক্ত ভিত্তি অর্জন করেছে। অন্যদিকে, ভারতের অর্থনীতি আরও অনেক বেশি বৈচিত্র্যময় এবং তাদের রয়েছে বিশাল অভ্যন্তরীণ বাজার ও শক্তিশালী প্রযুক্তি খাত। তবে বৈশ্বিক জ্বালানিসংকট এবং মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে বর্তমানে বাংলাদেশের অর্থনীতি নতুন কিছু চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি ও এলএনজি আমদানি এবং লোহিত সাগর হয়ে পণ্য পরিবহনে বিঘ্ন ঘটায় দেশের প্রধান রপ্তানি খাত কিছুটা চাপের মুখে পড়েছে।

এই বিভাগের আরও সংবাদ