৪ বছরে দরিদ্র মানুষ বেড়েছে ৮০ লাখ, ঝুঁকিতে সোয়া ৬ কোটি মানুষ

ইপেপার / প্রিন্ট ইপেপার / প্রিন্ট
৩

অর্থনীতি ডেস্ক: সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, গত চার বছরের ব্যবধানে দেশের দরিদ্র মানুষের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিভিন্ন সামাজিক ও অর্থনৈতিক সূচক বিশ্লেষণ করে আন্তর্জাতিক এই ঋণদাতা সংস্থাটি জানিয়েছে, এই সময়ে প্রায় ৮০ লাখ মানুষ নতুন করে দারিদ্রসীমার নিচে চলে গেছেন। করোনাকালীন ধাক্কা এবং পরবর্তী সময়ে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটের কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় এই নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশ্বব্যাংকের মূল্যায়নে উঠে এসেছে যে, বর্তমানে দেশের একটি বিশাল জনগোষ্ঠী অত্যন্ত নাজুক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছে। প্রায় সোয়া ছয় কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমার ঠিক কাছাকাছি অবস্থান করছেন, যার অর্থ হলো তাঁরা যে কোনো মুহূর্তে চরম দারিদ্র্যের শিকার হতে পারেন। এই বৃহৎ জনগোষ্ঠী মূলত নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি এবং জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান খরচের চাপে পিষ্ট হয়ে পড়েছেন।

- Advertisement -

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই বিপুল সংখ্যক মানুষের ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকার পেছনে প্রধানত দুটি বড় কারণ কাজ করছে—দ্রব্যমূল্যের লাগাতার ঊর্ধ্বগতি এবং আকস্মিক প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি। দেশের অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতির যে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়েছে, তার ফলে নিম্নবিত্ত ও নির্দিষ্ট আয়ের মানুষের সঞ্চয় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। ফলে সামান্য কোনো আর্থিক বিপর্যয় বা ধাক্কা এলেই তাঁরা সহজেই দরিদ্রের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়ে পড়ছেন।

এমন পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশের অর্থনীতিবিদ ও গবেষকেরা সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর পরিধি আরও বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন। তাঁরা মনে করেন, নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে খাদ্য সহায়তা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ভর্তুকির পরিমাণ বাড়ানো না গেলে এই ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে রক্ষা করা কঠিন হবে। টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়াতে দীর্ঘমেয়াদি নীতি গ্রহণের তাগিদ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা।

এই বিভাগের আরও সংবাদ