প্রবাসীদের সম্পদের বিরোধ নিষ্পত্তিতে গঠিত হচ্ছে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল: আইনমন্ত্রী
ইপেপার / প্রিন্ট
জাতীয় ডেস্ক: দেশ ও প্রবাসে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধ এবং অন্যান্য আইনি জটিলতা দ্রুত নিরসনের জন্য বিশেষ আদালত বা ট্রাইব্যুনাল গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। রাজধানী ঢাকায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এই গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনার কথা জানান। তিনি উল্লেখ করেন যে, দেশের প্রতিটি বিভাগীয় সদর দপ্তরে এই বিশেষায়িত ট্রাইব্যুনাল স্থাপন করা হবে, যা বর্তমানে একটি খসড়া প্রস্তাবের পর্যায়ে রয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে আশা প্রকাশ করা হয়েছে যে, খুব শীঘ্রই এই আইনি কাঠামো বাস্তবায়িত হলে প্রবাসীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটবে।
আইনমন্ত্রী তার বক্তব্যে প্রবাসীদের অবদানের কথা স্মরণ করে বলেন যে, তারা বিদেশ থেকে কষ্টার্জিত অর্থ পাঠিয়ে দেশে জমি বা সম্পত্তি কেনেন কিংবা পরিবারের কাছে টাকা পাঠান, কিন্তু পরবর্তীতে বিভিন্ন মামলায় জড়িয়ে বছরের পর বছর হয়রানির শিকার হন। এই ধরনের অনভিপ্রেত পরিস্থিতি এবং আইনি দীর্ঘসূত্রতা এড়াতেই সরকার এই বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই আদালতগুলো সম্পূর্ণভাবে প্রবাসীদের মামলাগুলো দ্রুত বিচার প্রক্রিয়ার আওতায় নিয়ে আসার জন্য কাজ করবে। এর ফলে বিচারপ্রার্থী প্রবাসীদের আইনি লড়াইয়ের দীর্ঘ প্রতীক্ষা ফুরোবে এবং তাদের স্থাবর সম্পত্তি বেদখল হওয়া রোধ করা সম্ভব হবে।
অনুষ্ঠানে দেশের অর্থনীতিতে অভিবাসী শ্রমিকদের অসামান্য অবদানের কথা তুলে ধরে আইনমন্ত্রী জানান যে, তৈরি পোশাক ও কৃষির পাশাপাশি শ্রম রপ্তানি দেশের অর্থনীতির মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে। প্রবাসীরা যেন যেকোনো আইনি সমস্যায় দ্রুত সহায়তা পান, সেজন্য লিগ্যাল এইড অধিদপ্তরের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক হটলাইন সেবা চালু করা হয়েছে। এই সেবায় যুগ্ম জেলা জজ পদমর্যাদার লিগ্যাল এইড কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যা প্রবাসীদের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিতকরণে বড় ভূমিকা পালন করবে। পাশাপাশি তিনি সম্প্রতি তার দুবাই সফরের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে জানান যে, সেখানকার বাংলাদেশি শ্রমিকরা অমানবিক পরিশ্রম করলেও অন্যান্য দেশের তুলনায় কম মজুরি পান, যা প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত।
প্রবাসীদের নানা সংকটের পেছনে অসাধু রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর দায়িত্বহীনতাকে দায়ী করে মন্ত্রী বলেন যে, ভুয়া সার্টিফিকেট ও জাল কাগজপত্র জমা দেওয়ার কারণে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে বাংলাদেশি শ্রমিকদের ভিসা বাতিল করা হচ্ছে। বর্তমান যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে সহজেই সত্যতা যাচাই করা যায় বিধায় ভুয়া নথি জমা দিলে বিদেশিরা কঠোর আইনি পদক্ষেপ নিচ্ছে। পরিশেষে, রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিটের (রামরু) ৩০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে সংগঠনের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষ ভূমিকার প্রশংসা করেন আইনমন্ত্রী এবং ভবিষ্যতে বাংলাদেশ উন্নত হয়ে অন্য দেশ থেকে শ্রমিক আনবে—এমন একটি সমৃদ্ধশালী দেশের স্বপ্ন দেখেন।
