বাংলাদেশে ২০২৭ সালে হাইব্রিড গাড়ি উৎপাদন শুরু করবে টয়োটা
ইপেপার / প্রিন্ট
অর্থনীতি ডেস্ক: জাপানি গাড়ি প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান টয়োটা বাংলাদেশে হাইব্রিড ইলেকট্রিক ভেহিকল বা এইচইভি উৎপাদন শিল্প গড়ে তোলার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। সম্প্রতি সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায় বৈঠকে এই বিনিয়োগের রূপরেখা তুলে ধরে প্রতিষ্ঠানটির প্রতিনিধিদল। টয়োটা তুশো করপোরেশনের ভাইস চেয়ারম্যান ইচিরো কাশিতানির নেতৃত্বে আসা এই প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে দেশের অর্থনৈতিক অঞ্চলে গাড়ি সংযোজন ও উৎপাদনের পাশাপাশি ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক আরও বিস্তৃত করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সরকারের শীর্ষ মহলের সঙ্গে এই আলোচনার মাধ্যমে দেশের অটোমোবাইল শিল্পে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রতিনিধিদলের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ২০২৭ সালের মধ্যে দেশের একটি নির্দিষ্ট অর্থনৈতিক অঞ্চলে হাইব্রিড গাড়ি কারখানা নির্মাণের প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু হবে। এরপর সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করে ২০২৯ সালের মধ্যে কারখানাটি থেকে বাণিজ্যিক ও পূর্ণাঙ্গ উৎপাদন শুরু করার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। ‘বাংলাদেশের সঙ্গে, বাংলাদেশের জন্য’ এই উন্নয়ন দর্শনকে সামনে রেখে টয়োটা কেবল গাড়ি তৈরিই করবে না, বরং দেশের বাজারে তাদের পরিবেশক নেটওয়ার্ক সব বিভাগীয় শহরে ছড়িয়ে দেবে। এর ফলে দেশের সাধারণ মানুষের কাছে আধুনিক প্রযুক্তির গাড়ি এবং এর যন্ত্রাংশ আরও সহজে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।
টয়োটার এই বিনিয়োগ প্রস্তাবকে অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে গ্রহণ করে স্বাগত জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান যে বর্তমান সরকার দেশে বিদেশি বিনিয়োগের জন্য একটি স্থিতিশীল, প্রতিযোগিতামূলক এবং সম্পূর্ণ ব্যবসা সহায়ক পরিবেশ বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর। বিনিয়োগকারীদের সব ধরনের নীতিগত সহায়তা, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো সুবিধা এবং ব্যবসায়িক নিরাপত্তা প্রদানে সরকার সবসময় প্রস্তুত রয়েছে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন। প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যে এই বিনিয়োগের ফলে দেশের শিল্পায়ন ত্বরান্বিত হওয়ার পাশাপাশি বড় পরিসরে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
গাড়ি উৎপাদনের পাশাপাশি বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের মতো পরিবেশবান্ধব ক্ষেত্রগুলোতেও বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছে জাপানি এই বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানটি। প্রধানমন্ত্রী এই খাতগুলোতেও তাদের বিনিয়োগের আহ্বান জানান এবং সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন। এছাড়া, দেশের তরুণ প্রজন্মের জন্য বিশেষ কারিগরি প্রশিক্ষণ এবং দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি চালুর মাধ্যমে উপযুক্ত মানবসম্পদ গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে টয়োটার। বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরসহ সরকারের বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ উপদেষ্টা ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
