বৃহস্পতিবার ,  ১৫ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ||  ৩০শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ -  শরৎকাল

হাসপাতাল আছে, যন্ত্রপাতি আছে— নেই পর্যাপ্ত চিকিৎসক

প্রকাশিত হয়েছে-

স্বাস্থ্য ডেস্ক: কোটি টাকার আধুনিক চিকিৎসাসামগ্রী এবং পর্যাপ্ত শয্যা থাকা সত্ত্বেও কেবল চিকিৎসক ও জনবলের তীব্র সংকটের কারণে কিশোরগঞ্জের স্বাস্থ্যসেবা খাত মুখ থুবড়ে পড়েছে। শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা না পেয়ে সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়ে বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালে ভিড় করছেন। ফলে বিপুল সক্ষমতা ও সরকারি বিনিয়োগ থাকা সত্ত্বেও প্রতিষ্ঠানগুলো কাঙ্ক্ষিত সেবা প্রদানে ব্যর্থ হচ্ছে এবং মানুষের ভোগান্তির প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জেলার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে অনুমোদিত শয্যার তুলনায় রোগীর সংখ্যা প্রায় দেড় থেকে দ্বিগুণ পর্যন্ত বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। জনবলের মারাত্মক ঘাটতির কারণে অনেক প্রতিষ্ঠানে সিজারিয়ান অপারেশনসহ জরুরি অস্ত্রোপচার এবং জীবন রক্ষাকারী পরীক্ষা-নিরীক্ষা কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।

কাগজে-কলমে স্বাস্থ্যসেবার বিশাল অবকাঠামো থাকলেও সাধারণ রোগীরা এর বাস্তব সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। কিশোরগঞ্জের ৫০০ শয্যার শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে সাত শর বেশি রোগী ভর্তি থাকেন, যা অনুমোদিত ক্ষমতার চেয়ে দুই শতাধিক বেশি। এই প্রতিষ্ঠানে ১২৩ জন চিকিৎসকের পদ অনুমোদিত থাকলেও বর্তমানে মাত্র ৯০ জন কর্মরত আছেন। এছাড়া ৬২৫টি স্টাফ পদের মধ্যে ৪৭৫ জন কর্মরত থাকার পাশাপাশি ১৬০ জন আউটসোর্সিং কর্মী নিয়োজিত রয়েছেন। চিকিৎসক ও জনবলের এই ঘাটতির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জরুরি চিকিৎসা সরঞ্জামের সংকট, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

হাসপাতালটির চিকিৎসা কার্যক্রমে দেখা দিয়েছে বড় ধরনের কারিগরি ও ব্যবস্থাপনাগত ত্রুটি। প্রয়োজনীয় চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল মাত্র ছয়টি ডায়ালাইসিস মেশিন দিয়ে তিন শিফটে অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামলাতে হচ্ছে। বর্তমানে প্রায় দুই শ রোগী নিয়মিত ডায়ালাইসিস নিলেও বিপুলসংখ্যক মানুষ অপেক্ষমাণ তালিকায় রয়েছেন এবং সেবা সচল রাখতে অন্তত বিশটি মেশিন জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজন। এছাড়া কলেজের অধীন মর্গের ১২টি ফ্রিজারের মধ্যে ১১টিই দীর্ঘদিন ধরে নষ্ট থাকায় একটিমাত্র সচল ফ্রিজার দিয়ে কাজ চালাতে হচ্ছে। একসঙ্গে একাধিক মরদেহ আসলে তা সংরক্ষণ করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায় এবং অনেক ক্ষেত্রে পচন ধরে ফরেনসিক ময়নাতদন্তের কাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।

অন্যদিকে, কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালেও প্রায় একই ধরনের দুর্দশা বিরাজ করছে যেখানে প্রতিদিন সাড়ে তিন শ থেকে চার শ রোগী চিকিৎসাধীন থাকেন। ৬৮ জন অনুমোদিত চিকিৎসকের বিপরীতে কর্মরতদের একটি অংশ অনুপস্থিত থাকায় নিয়মিত চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। তবে নানা প্রতিকূলতা ও অতিরিক্ত রোগীর চাপ সত্ত্বেও এই হাসপাতালে অপারেশন, অ্যানেসথেশিয়া এবং প্যাথলজি সেবা কোনোমতে সচল রাখা হয়েছে। সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ সাইদুর রহমান জানিয়েছেন যে সাম্প্রতিক বিসিএসের মাধ্যমে কিছু চিকিৎসক নিয়োগ পেলেও এখনো অনেক বিশেষজ্ঞ পদ শূন্য রয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের মাধ্যমে এসব শূন্যপদ দ্রুত পূরণের চেষ্টা চলছে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।