স্কুলে শিক্ষক–শিক্ষিকার মারামারির ভিডিও ভাইরাল, পরে যা জানা গেল

ইপেপার / প্রিন্ট ইপেপার / প্রিন্ট
৩

জাতীয় ডেস্ক: ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলায় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষে দুই শিক্ষকের মারামারির দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওটিতে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও এক সহকারী শিক্ষক একে অপরের সঙ্গে হাতাহাতিতে লিপ্ত হয়েছেন। ঘটনার পর থেকেই স্থানীয় শিক্ষা বিভাগসহ সচেতন মহলে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে এই অপ্রীতিকর ঘটনাটি।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, আলোচিত এই ঘটনাটি ঘটেছিল ফুলবাড়িয়া উপজেলার রাঙ্গামাটিয়া ইউনিয়নের আকতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। ভিডিওতে মারামারিতে জড়ানো ওই দুই শিক্ষক হলেন বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক আফজাল হোসেন এবং সহকারী শিক্ষক আসমা বেগম। পেশাগত পরিচয়ের পাশাপাশি তাঁরা সম্পর্কে স্বামী-স্ত্রী হলেও দীর্ঘকাল ধরে তাঁদের মধ্যে পারিবারিক বিরোধ চলে আসছে এবং বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে।

- Advertisement -

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০০৪ সালে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়া এই দম্পতির সংসারে একটি সন্তান রয়েছে। তবে ব্যক্তিগত কলহের জেরে গত প্রায় চৌদ্দ বছর ধরে তাঁরা আলাদা বসবাস করছেন এবং তাঁদের মধ্যে আইনি লড়াইও চলমান রয়েছে। প্রধান শিক্ষক আফজাল হোসেন গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, পারিবারিক দূরত্বের জেরে মাঝেমধ্যেই তাঁদের মধ্যে ঝগড়া হতো এবং সেদিনও তেমনই একটি বিষয় নিয়ে বিদ্যালয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছিল।

প্রধান শিক্ষক আরও স্বীকার করেন যে বিদ্যালয়ের মতো একটি পবিত্র প্রতিষ্ঠানে এমন হট্টগোল বা মারামারি করা একেবারেই অনুচিত হয়েছে। তবে এ বিষয়ে সহকারী শিক্ষক আসমা বেগমের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। উল্লেখ্য, মাত্র পাঁচজন শিক্ষক ও নব্বইয়ের বেশি শিক্ষার্থী নিয়ে চলা এই বিদ্যালয়ে এর আগেও বেশ কয়েকবার এমন অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল।

এদিকে ফুলবাড়িয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন জানিয়েছেন, ভিডিওটি সম্প্রতি তাঁদের নজরে এসেছে এবং ঘটনাটি কিছুদিন আগের বলে তাঁরা জানতে পেরেছেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভেতরে শিক্ষকদের এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় উল্লেখ করে তিনি জানান, এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে দাপ্তরিক চিঠি পাঠানো হচ্ছে।

এই বিভাগের আরও সংবাদ