মঙ্গলবার ,  ১৩ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ||  ২৮শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ -  শরৎকাল

সৈয়দপুর রেলকারখানায় কোচ সংস্কারের মান নিয়ে ক্ষুব্ধ মন্ত্রী, কাজ বন্ধের নির্দেশ

প্রকাশিত হয়েছে-

জাতীয় ডেস্ক: দেশের বৃহত্তম রেলওয়ে কারখানা হিসেবে পরিচিত সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার সার্বিক কার্যক্রম আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি কারখানার ভেতরে চলমান বিভিন্ন রেলকোচ সংস্কারকাজের নিম্নমান নিজ চোখে দেখার পর তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পরিদর্শনের সময় তিনি তাৎক্ষণিকভাবে এই কারখানায় সব ধরনের কোচ সংস্কারকাজ সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার কঠোর নির্দেশ দেন। সরকারের নীতিনির্ধারক পর্যায়ে এই ধরনের অবহেলা ও গাফিলতি কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না বলে তিনি সাফ জানিয়ে দেন।

পরিদর্শনকালে মন্ত্রী নিজে কারখানার বিভিন্ন শেড ও বিভাগ ঘুরে দেখেন এবং শ্রমিকদের কাজের পদ্ধতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। বিশেষ করে রেলকোচের জানালা সংস্কারের যে মান তিনি দেখেছেন, তা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন যে এমন নিম্নমানের কাজ সাধারণ ছোটখাটো ওয়ার্কশপেও আশা করা যায় না। কারখানার বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক শাহ সুফি নূর মোহাম্মদকে সরাসরি তিরস্কার করে তিনি বলেন, নিজের বাসাবাড়ির কাজ হলে কি কেউ এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন ও নিম্নমানের কাজ মেনে নিতেন। এই পরিদর্শনের পর কারখানার কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পেশাগত দক্ষতা এবং যোগ্যতা নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন তোলেন মন্ত্রী।

যাত্রী সাধারণের কাঙ্ক্ষিত সেবা নিশ্চিত করতে হলে রেলকোচগুলোর সংস্কারকাজে গুণগত মানের কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। সংস্কারের নামে এই ধরনের হরিলুট এবং দায়সারা কাজের সঙ্গে কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন। ভবিষ্যতে কোচ সংস্কারের ক্ষেত্রে মানসম্মত উপকরণ ব্যবহার এবং কাজে শতভাগ স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্টদের কঠোর বার্তা দেওয়া হয়েছে। রেলওয়ের উন্নয়নে বর্তমান সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির কথা পুনর্ব্যক্ত করে তিনি কাজের মানোন্নয়নে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা প্রদান করেন।

এই উচ্চপর্যায়ের পরিদর্শনে মন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব এবং মন্ত্রীর একান্ত সচিব হাবিবুল হাসান রুমি। এছাড়াও স্থানীয় প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তা ও রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের পদস্থ কর্মকর্তারা এই সময় মন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন। নীলফামারীর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হুমায়ূন কবীর, সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারাহ ফাতেহা তাকলিমা এবং কারখানার কর্মব্যবস্থাপক এম মমতাজুল ইসলামসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা পুরো পরিদর্শনের সময় মন্ত্রীর সঙ্গে কারখানার বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখেন।