সাগরে তেল-গ্যাসের ইজারা পেছাল ৪ মাস

ইপেপার / প্রিন্ট ইপেপার / প্রিন্ট
১

অর্থনীতি ডেস্ক: বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য আন্তর্জাতিক দরপত্র বা অফশোর বিডিং রাউন্ড ২০৬-এর প্রস্তাব জমা দেওয়ার নির্ধারিত সময়সীমা চার মাস বাড়ানো হয়েছে। সম্প্রতি জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই সময় বাড়ানোর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়। এর ফলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি কোম্পানিগুলো এখন থেকে আরও দীর্ঘ সময় ধরে এই প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবে এবং নিজেদের প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে পারবে। সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে দেশের সুনীল অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতের পদক্ষেপে নতুন গতি আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করছেন।

জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিশ্বজুড়ে পরিচিত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক তেল কোম্পানির শীর্ষ নির্বাহীদের সঙ্গে আলোচনার পর এই সময়সীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন বহুজাতিক কোম্পানির পক্ষ থেকে অনুরোধ আসার পর অফশোর বিডিং রাউন্ডের ডেটা সেলস প্যাকেজগুলো আরও সহজলভ্য করা হয়। নতুন সময়সূচি অনুযায়ী, আগামী বছরের নভেম্বর মাসের শেষ দিনের পরিবর্তে ২০২৭ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত দরপত্র জমা দেওয়া যাবে। কর্তৃপক্ষের প্রত্যাশা, ডেটা প্যাকেজ সহজীকরণ এবং সময় বৃদ্ধির এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর মাঝে বিডিংয়ে অংশ নেওয়ার আগ্রহ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।

- Advertisement -

সাগরে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানের এই উদ্যোগের আওতায় দেশের গভীর সমুদ্রের ১৫টি এবং অগভীর সমুদ্রের ১১টি ব্লকে জ্বালানি উত্তোলনের পরিকল্পনা রয়েছে। এই ব্লকগুলোতে অনুসন্ধানের জন্য গত মে মাসে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করে পেট্রোবাংলা, যেখানে প্রতিটি দরপত্রের মূল্য নির্ধারণ করা হয় সাত হাজার মার্কিন ডলার। আগ্রহীরা চাইলে নির্দিষ্ট কোনো ব্লকের পাশাপাশি পুরো অফশোর এলাকার জন্যও দরপত্র জমা দিতে পারবেন। ইতিমধ্যে টার্কিশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন এবং চায়না ন্যাশনাল অফশোর অয়েল করপোরেশনসহ বেশ কয়েকটি স্বনামধন্য বিদেশি কোম্পানি প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দরপত্র কিনে নিয়েছে বলে পেট্রোবাংলা সূত্রে জানা গেছে।

উল্লেখ্য, এর আগে বিগত সরকারের আমলে সাগরে জ্বালানি অনুসন্ধানের উদ্যোগ নেওয়া হলেও বিভিন্ন জটিলতার কারণে তা সফল হয়নি। তৎকালীন সময়ে মার্কিন বহুজাতিক কোম্পানি এক্সনমোবিলসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান দরপত্র কিনলেও শেষ পর্যন্ত কেউ প্রস্তাব জমা না দেওয়ায় সেই উদ্যোগ বাতিল হয়ে যায়। পরবর্তীতে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বিদেশি কোম্পানির অনীহার কারণ খতিয়ে দেখতে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করে। ওই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে পাইপলাইন খরচ কমানো, লভ্যাংশ অংশীদারিত্বের শর্ত সহজ করা এবং গ্যাসের নির্ধারিত মূল্য বাড়ানোর মাধ্যমে মডেল পিএসসিতে বেশ কিছু যুগান্তকারী সংশোধনী আনা হয়।

এই বিভাগের আরও সংবাদ