বিশ্বকাপে বেলজিয়ামের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করার পর নিজের দলের প্রশংসায় পঞ্চমুখ ইরান কোচ আমির ঘালেনোয়ি। তার দাবি, নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও ইরান ‘দারুণ ও সুন্দর ফুটবল’ খেলেছে।
স্থানীয় সময় রোববার (২১ জুন) সোফাই স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত গ্রুপ ‘জি’-এর ম্যাচে ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ দশে থাকা বেলজিয়ামকে রুখে দেয় ইরান। ফলে দুই ম্যাচ শেষে ইরানের সংগ্রহ দাঁড়িয়েছে দুই পয়েন্ট।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে ঘালেনোয়ি বলেন, ‘আমরা সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির মধ্যে বিশ্বকাপে এসেছি। তারপরও একটি দুর্দান্ত দল এবং একজন অসাধারণ কোচের বিপক্ষে ইতিবাচক ফল পেয়েছি। আমরা সুন্দর ফুটবল খেলেছি।’
বিশ্বকাপ শুরুর আগে থেকেই নানা সমস্যার মুখোমুখি হয়েছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোতে যাতায়াত সংক্রান্ত জটিলতা, ভিসা সমস্যা, পর্যাপ্ত প্রস্তুতির অভাব এবং দীর্ঘ ভ্রমণসূচি—সবকিছুই দলের ওপর প্রভাব ফেলেছে বলে জানান কোচ।
বর্তমানে মেক্সিকোর তিহুয়ানায় অবস্থান করছে ইরান দল। শনিবার রাতে যুক্তরাষ্ট্রে এসে ম্যাচ খেলেই আবার রোববার রাতেই মেক্সিকোতে ফিরে যাওয়ার কথা ছিল তাদের।
ঘালেনোয়ি বলেন, ‘আমরা দুটি ম্যাচ খেলেছি এবং হারিনি। আজকের ফল উদযাপন করব, তবে আগামীকাল থেকেই মিসরের ম্যাচ নিয়ে ভাবতে হবে। কিন্তু আমাদের সামনে আবার ভ্রমণ আছে, পর্যাপ্ত বিশ্রামের সময়ও নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘১৬ ঘণ্টার যাত্রা, দুটি ফ্লাইট এবং এমন কঠিন একটি ম্যাচ—এটা সহ্য করা সহজ নয়। তারপরও আমাদের খেলোয়াড়রা নিজেদের সর্বস্ব উজাড় করে দিয়েছে। এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন রিকোভারি করা।’
দ্বিতীয়ার্ধে বদলি হিসেবে মাঠে নামা উইঙ্গার আলিরেজা জাহানবাখশও দলের ভোগান্তির কথা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা খুব বেশি কিছু চাইনি। অন্তত পুরো সাপোর্ট স্টাফকে সঙ্গে রাখা এবং ম্যাচের শহরে মানিয়ে নেওয়ার মতো কিছু সময় পাওয়াটা ন্যায্য প্রত্যাশা ছিল।’
তবে প্রতিকূলতাই দলকে আরও ঐক্যবদ্ধ করেছে বলে মনে করেন তিনি, ‘এটা আমাদের সংস্কৃতির অংশ যে কঠিন পরিস্থিতিতে আমরা আরও ভালো খেলি। আজকের ম্যাচে আমরা যে চরিত্র দেখিয়েছি, তার পেছনে এই পরিস্থিতিরও ভূমিকা আছে।’
বিশ্বকাপে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো নকআউট পর্বে ওঠার স্বপ্ন এখনও বেঁচে আছে ইরানের। সেই লক্ষ্য সামনে রেখে আগামী শুক্রবার সিয়াটলের লুমেন ফিল্ডে মিশরের মুখোমুখি হবে তারা।
এদিকে বেলজিয়ামের বিপক্ষে ড্রয়ের অন্যতম নায়ক ছিলেন গোলরক্ষক আলিরেজা বেইরানভান্দ। ম্যাচজুড়ে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করেন তিনি। বিশেষ করে দ্বিতীয়ার্ধে কেভিন ডি ব্রুইনার ক্রস থেকে তৈরি হওয়া নিশ্চিত গোলের সুযোগ রুখে দিয়ে দলকে বাঁচান এই অভিজ্ঞ গোলরক্ষক।
বেইরানভান্দকে প্রশংসায় ভাসিয়ে ঘালেনোয়ি বলেন, ‘ইরানের ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা গোলরক্ষক সে। আজ তার সেরা দিনগুলোর একটি ছিল। দুর্দান্ত মনোযোগ এবং পারফরম্যান্স দিয়ে আমাদের জন্য অত্যন্ত মূল্যবান একটি পয়েন্ট এনে দিয়েছে।’
সোফাই স্টেডিয়ামে ৭০ হাজারের বেশি দর্শকের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ইরানও পেয়েছিল বিপুল সমর্থন। বেলজিয়াম সমর্থকদের পাশাপাশি গ্যালারিজুড়ে ইরানি দর্শকদের সরব উপস্থিতি ম্যাচজুড়ে দলকে অনুপ্রাণিত করেছে।