আন্তর্জাতিক ডেস্ক: আফ্রিকার বন্য প্রাণীর জগতে সঙ্গীর সন্ধানে এক রোমাঞ্চকর ও দীর্ঘ অভিযাত্রার নজির গড়েছে তিনটি আফ্রিকান বুনো কুকুর। জাম্বিয়ার কাফুয়ে ন্যাশনাল পার্ক থেকে শুরু হওয়া এই তিন ভাইয়ের প্রায় দুই হাজার ৫৬৩ মাইলের স্থলযাত্রা মহাদেশটিতে যেকোনো প্রাণীর ক্ষেত্রে দীর্ঘতম দূরত্বের রেকর্ড হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে। গবেষকদের মতে, প্রজননের সীমিত সুযোগ থাকায় তরুণ বন্য কুকুরদের একাংশ নতুন সঙ্গীর খোঁজে পুরোনো দল ছেড়ে বেরিয়ে পড়ে, যা এই তিন ভাইয়ের ক্ষেত্রেও ঘটেছে। দীর্ঘ এই পথপরিক্রমায় তারা কুমিরে ভরা নদী পার হওয়া ছাড়াও সিংহ ও মানুষের জনবসতির নানা ঝুঁকি সফলভাবে মোকাবিলা করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মন্টানা স্টেট ইউনিভার্সিটির সংরক্ষণ জীববিজ্ঞান ও প্রতিবেশবিদ্যার অধ্যাপক স্কট ক্রিল স্যাটেলাইট জিপিএস কলারের মাধ্যমে এই তিন ভাইয়ের গতিবিধি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন। জাম্বিয়ান কার্নিভোর প্রোগ্রামের সঙ্গে যৌথ দীর্ঘ গবেষণার অংশ হিসেবে তিনি বন্য কুকুরের এই রেকর্ড ভাঙা অভিযাত্রা ট্র্যাক করেন। গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, সংরক্ষিত এলাকা ছেড়ে জনবসতিপূর্ণ অঞ্চলে প্রবেশের পর তিন ভাইয়ের চলাচলের ধরন পুরোপুরি বদলে যায় এবং তারা বিশ্রাম বা শিকারের চেয়ে বিপদ এড়াতে দ্রুত সরল পথে এগিয়ে যাওয়ার নীতি গ্রহণ করে।
ভ্রমণকালে অবিশ্বাস্যভাবে সুদূর পথ পেরিয়ে এই তিন ভাইয়ের সঙ্গে দেখা হয়েছিল তাদের নারী সঙ্গীদের একটি দলের, যা তাদের শক্তিশালী সামাজিক বন্ধনেরই প্রমাণ দেয়। যদিও চার বোনের ওই দলটি ভাইদের আগেই রওনা হয়েছিল এবং যাত্রাপথে এক বোন চোরাশিকারিদের পাতা ফাঁদে পড়ে প্রাণ হারায়। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন চড়াই-উতরাই পেরিয়ে ভাইয়েরা পূর্ব জাম্বিয়ার লুয়াংওয়া উপত্যকায় পৌঁছায়, যেখানে আফ্রিকার অন্যতম বড় বন্য কুকুরের আবাসস্থল রয়েছে। গবেষকদের ধারণা, ওই অঞ্চলে পৌঁছানোর পর তারা নতুন স্ত্রী কুকুরের সান্নিধ্য লাভ করতে সক্ষম হয়েছিল।
বন্য প্রাণীর সুরক্ষার দিক থেকে এই দীর্ঘ পথচলা সংরক্ষণবিদদের জন্য নতুন আশার সঞ্চার করেছে। জাম্বিয়ার বিচ্ছিন্ন জাতীয় উদ্যানগুলোর মধ্যে বন্য কুকুরের এই অবাধ চলাচল বিভিন্ন জনজাতির মধ্যে জিনগত যোগাযোগ স্থাপনে সাহায্য করছে। তবে এই আনন্দের খবরের পাশাপাশি বন্য কুকুরের টিকে থাকার লড়াইয়ে চোরাশিকারিদের পাতা তারের ফাঁদ এক বড় আতঙ্ক হিসেবে দেখা দিয়েছে। বিশ্বজুড়ে আফ্রিকান বুনো কুকুরের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় এই ধরনের সংরক্ষণ চ্যালেঞ্জগুলো এদের অস্তিত্বকে আরও বেশি ঝুঁকিতে ফেলছে।