শুক্রবার ,  ২৪শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ||  ১১ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ -  গ্রীষ্মকাল

শ্যামনগরে পেট্রোল নিতে ছেলের মোটরসাইকেল নিয়ে দীর্ঘ লাইনে মা

প্রকাশিত হয়েছে-

আব্দুল আলিম,শ্যামনগর সাতক্ষীরাঃ

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে মুন্সিগঞ্জ ডেমলা ফিলিং স্টেশন থেকে ছেলে সাগর বৈদ্যের মোটরসাইকেলের পেট্রোল নিতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন মা বিথিকা রানী বৈদ্য। ভাড়ায় মোটরসাইকেলচালক সাগর বৈদ্য তেল না পেয়ে বেকার হয়ে এখন মাঠের কাজে লেগেছেন। এজন্য মোটরসাইকেল নিয়ে তেল পাওয়ার অপেক্ষা করছেন মা। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) মুন্সিগঞ্জ ডেলমা ফিলিং স্টেশনে প্রখর দাবদাহে তাকে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।
সারাদেশে জ্বালানি তেলের সংকট কাটাতে ৫ দিন অপেক্ষার পর আজ তেল সংগ্রহ করা যাবে জানিয়েছেন ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ। মুন্সিগঞ্জ ফিলিং স্টেশন থেকে ইউনিয়ন ভিত্তিক তেল সংগ্রহের ঘোষণা দিলে, পাম্প কর্তৃপক্ষ মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের তেল দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করে।
মুন্সিগঞ্জ ফিলিং স্টেশন থেকে তিনটি ইউনিয়নের তেল দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে উপজেলা প্রশাসন। তারই ধারাবাহিকতায় বুড়িগোয়লিনি ইউনিয়নে পেট্রোল দেওয়ার সময়ে ব্যাপকভাবে অব্যবস্থাপনার সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে ইউনিয়নের রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সঙ্গে মুন্সিগঞ্জ ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজারকে বেপরোয়া মারধর করে। সে কারণে ফিলিং স্টেশন ৫দিন তেল দেওয়া বন্ধ রাখে।
মুন্সীগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের তথ্য অনুযায়ী দুই হাজারের অধিক মোটরসাইকেল ব্যবহার করে। স্থানীয় মোটরসাইকেল ভাড়া চালকরা নিরুপায় হয়ে বেকার হয়ে পড়ছে। আবার কেউ কেউ ভিন্ন পেশার কাজের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে। ফলে সেই পরিবারের নারীকে দেখা গেছে পেট্রোল সংগ্রহ করতে।
৩ সন্তানের জননী বিথিকা রানী বলেন, ‘আমার ছেলে সাগর বৈদ্য মোটরসাইকেল ভাড়া চালানোসহ কৃষি কাজ করে সংসার চালায়। সময় মতো তেল না পাওয়ার কারণে কৃষি কাজে শ্রম দিতে গেছে। আমি এই দুই দিন তেলের লাইনে অপেক্ষা করছি। গতকাল তেল দেওয়ার খবর শুনে দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করছি।’
“এই ফিলিং স্টেশনে সকাল ৭টা থেকে সাড়ে ৯ পর্যন্ত সরকারি বেসরকারি চাকরিজীবীদের তেল দিয়েছে। পরে সাধারণ জনগণের লাইনে কিছু তেল দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের নিয়ম ছাড়াই তেল দেওয়া হচ্ছে। আমরা দীর্ঘ লাইনে রাস্তার দুই পাশে প্রায় ২/৩শ’ মোটরসাইকেল গাড়ি নিয়ে অপেক্ষা করছি কখন তেল পাবো জানি না।”
মুন্সীগঞ্জ ইউনিয়নের ইউপি সদস্য দেবাশীষ গায়েন বলেন, ‘অনাকাঙ্খিত বিশৃঙ্খল কিছু ঘটনার কারণে তেল দেওয়া বন্ধ ছিল। ইউনিয়ন পরিষদ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে সমন্বয় করে আবার তেল দেওয়ার শুরু করেছে। এখানে সুষ্ঠুভাবে তেলের বণ্টন বিষয়টি নিশ্চিত হলে সবাই তেল পাবে এবং জনগণের স্বস্তি ফিরে আসবে।’