জাতীয় ডেস্ক: রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সম্প্রতি এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জনকারী ৩১ জন কৃতি শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা ও শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা হয়েছে। ডিআরইউর শফিকুল কবির মিলনায়তনে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সংগঠনের সদস্যদের সন্তানরাই মূলত এই সম্মাননা লাভ করে। ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি আবু সালেহ আকনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল সঞ্চালনায় পুরো অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়। সংবাদকর্মী অভিভাবকদের সন্তানদের এমন অর্জনে আনন্দ প্রকাশ করেন আমন্ত্রিত অতিথিরা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন যে, কেবল ভালো ফলাফল অর্জন করলেই চলবে না, বরং নিজেদের একজন আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। তিনি নতুন প্রজন্মের মাঝে বিজ্ঞান, গণিত এবং কারিগরি শিক্ষার আগ্রহ কমে যাওয়ার বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। অর্থনৈতিক অগ্রগতির স্বার্থে গণিত ও প্রযুক্তিমুখী শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন। কৃতি শিক্ষার্থীরা সমাজে বিজ্ঞান শিক্ষার গুরুত্ব প্রচার করলে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
শিক্ষাক্ষাতের সংস্কার নিয়ে কথা বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা জানান যে, শুধু বাজেট বরাদ্দ বাড়ালেই চলবে না, বরং সেই অর্থ সঠিকভাবে ব্যয় হচ্ছে কি না তা কঠোরভাবে নিশ্চিত করতে হবে। নাগরিকত্ববোধ তৈরি, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং উদ্ভাবনী শক্তির বিকাশ ঘটানোই হলো আধুনিক শিক্ষার মূল লক্ষ্য। নতুন প্রজন্মকে বহুমুখী গবেষণা ও জ্ঞানচর্চায় ব্রতী হয়ে দেশের সার্বিক উন্নয়নে অগ্রণী ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি। এছাড়া অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন এসবিএসি ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী ও ক্যাপিটেক এ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডের চেয়ারম্যান হাসান রহমানসহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
সংগঠনের পক্ষ থেকে কৃতি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে ডিআরইউ সভাপতি বলেন যে, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি অর্জিত মেধা ও প্রজ্ঞাকে দেশ ও দশের কল্যাণে নিয়োজিত করতে হবে। সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল তার বক্তব্যে নৈতিক মূল্যবোধ, দেশপ্রেম ও সামাজিক দায়বদ্ধতার ওপর বিশেষ জোর দেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, আজকের এই তরুণরাই আগামী দিনে দেশকে নেতৃত্ব দিয়ে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। পরিশেষে আমন্ত্রিত অতিথিরা সফল শিক্ষার্থীদের হাতে বৃত্তির সনদ ও স্মারক তুলে দেন, যা তাদের ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবনে আরও বড় সাফল্যের অনুপ্রেরণা জোগাবে।