বৃহস্পতিবার ,  ৮ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ||  ২৩শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ -  শরৎকাল

রাষ্ট্র-রাজনীতিতে উলামায়ে কেরামকে উপেক্ষার পরিণতি কখনো ভালো হয় না: চরমোনাই পীর

প্রকাশিত হয়েছে-

জাতীয় ডেস্ক: দেশের রাজনীতি ও রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে আলেম সমাজকে দূরে সরিয়ে রাখার প্রবণতার তীব্র সমালোচনা করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম। সম্প্রতি রাজধানী ঢাকার ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আয়োজিত এক জাতীয় ওলামা সামিটে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, এই অঞ্চলের রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রতিটি বড় পরিবর্তনে উলামায়ে কেরাম সবসময় সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, কঠিন সংগ্রামের মাধ্যমে অর্জিত পরিবর্তনের পর রাষ্ট্রকে নতুনভাবে গড়ে তোলার প্রক্রিয়ায় এই সমাজকে সবসময় বঞ্চিত রাখা হয়।

চরমোনাই পীর আরও উল্লেখ করেন যে, সাধারণ মানুষ বুকভরা আশা আর জীবন উৎসর্গ করার মানসিকতা নিয়ে দেশের যেকোনো বড় পরিবর্তনে অংশ নেয়। কিন্তু রাষ্ট্র পুনর্গঠনের কাজে সঠিক নেতৃত্ব ও আলেমদের অংশগ্রহণ না থাকায় জনগণের সেই কাঙ্ক্ষিত প্রত্যাশা বারবার হোঁচট খায়। অতীতেও এই অবমূল্যায়নের ফল কখনো দেশের জন্য ইতিবাচক হয়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাই বর্তমান সরকারের প্রতি তার সুনির্দিষ্ট আহ্বান ছিল, সাম্প্রতিক গণ-অভ্যুত্থানের পর একটি সুশৃঙ্খল ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনে যেন অবিলম্বে আলেম সমাজকে যথাযথভাবে সম্পৃক্ত করা হয়।

সামিটের মঞ্চ থেকে বর্তমান সরকারের বিভিন্ন জনদুর্ভোগ সৃষ্টিকারী নীতি ও উদাসীনতার কঠোর সমালোচনা করেন এই ইসলামী নেতা। তিনি অভিযোগ করেন যে, দেশজুড়ে ডেঙ্গু ও হামের মতো মারাত্মক রোগে আক্রান্ত হয়ে বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটলেও প্রশাসন কিংবা সরকারের মধ্যে কার্যকর কোনো তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না। এর পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম লাগাতার বাড়িয়ে মানুষের কষ্টের বোঝা আরও ভারী করা হচ্ছে বলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি পরিষ্কার ভাষায় জানিয়ে দেন যে, কেবল পণ্যের দাম বাড়িয়ে কোনো সংকটের স্থায়ী সমাধান করা সম্ভব নয়, বরং সমস্যাগুলোর মূল কারণ খুঁজে বের করে তা দূর করার উদ্যোগ নিতে হবে।

সকাল থেকে শুরু হওয়া এই ওলামা সামিটে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শতাধিক প্রখ্যাত ও শীর্ষ স্থানীয় আলেম ও মাশায়েখ অংশ নেন। দিনব্যাপী এই আয়োজনে আরও উপস্থিত ছিলেন আল্লামা নূরুল ইসলাম ওলীপুরী, সাবেক উপদেষ্টা ড. এএফএম খালিদ হোসেন এবং হেফাজতে ইসলামের নায়েবে আমির মাওলানা আহমাদ আলী কাসেমীসহ দেশের বিশিষ্ট ধর্মীয় ব্যক্তিত্বরা। সামিটের শেষ পর্যায়ে আলেমদের একটি নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়, যেখানে আগামী সেশনের জন্য মুফতি মিজানুর রহমান সাঈদকে কেন্দ্রীয় সভাপতি এবং মুফতি রেজাউল করীম আবরারকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়।