শুক্রবার ,  ৯ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ||  ২৪শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ -  শরৎকাল

রপ্তানিতে ছিল শীর্ষে, এখন দেনার দায়ে নিমজ্জিত

প্রকাশিত হয়েছে-

অর্থনীতি ডেস্ক: খুলনার পাটপণ্য রপ্তানিকারক শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান সুপার জুট মিল একসময়ে দারুণ লাভজনক ব্যবসা পরিচালনা করে দেশজুড়ে নজর কেড়েছিল। ২০০৬ সালে ফুলতলা উপজেলার আলকা গ্রামে প্রায় আড়াইশো কোটি টাকা ব্যয়ে গড়ে ওঠা এই কারখানায় প্রতিদিন লক্ষাধিক টাকা মুনাফা অর্জিত হতো। ২৪টি দেশে পাটজাত পণ্য সরবরাহ করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রতিষ্ঠানটি একাধিকবার রাষ্ট্রীয় সম্মাননা লাভ করে। কিন্তু বর্তমানে সুদিনের সেই সোনালী সময় পেছনে ফেলে বিপুল পরিমাণ ঋণের বোঝায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে এই বিখ্যাত শিল্পপ্রতিষ্ঠানটি।

সফলতার ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে ২০১৬ সালে উত্তরডিহি গ্রামে প্রায় সাতশো কোটি টাকা বিনিয়োগ করে সুপারেক্স লেদার নামক আরেকটি প্রতিষ্ঠান চালু করেন উদ্যোক্তারা। পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার এবং আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করায় এটি দেশের অন্যতম শীর্ষ গ্রিন কারখানা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছিল। তবে উৎপাদনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ার পর থেকেই মূলত জটিলতার সূত্রপাত ঘটে এবং প্রয়োজনীয় চলতি মূলধনের অভাবে কারখানাটি থমকে দাঁড়ায়। দীর্ঘ সময় ধরে ব্যাংক থেকে পর্যাপ্ত অর্থায়ন না পাওয়ায় কাঁচামাল পচে গিয়ে কোটি কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে প্রতিষ্ঠানটি।

উদ্যোক্তা এম ফিরোজ আহমেদ ভূঁইয়া দাবি করেছেন যে, কোনো ধরনের ব্যবসায়িক অসফলতার কারণে নয় বরং ব্যাংকিং খাতের অসহযোগিতার ফলেই এই সংকট তৈরি হয়েছে। তার অভিযোগ, তৎকালীন সময়ে একটি প্রভাবশালী মহলের অনৈতিক নজর এবং ব্যাংক খাতের অসহযোগিতার কারণে লাভজনক প্রতিষ্ঠানগুলোকে পরিকল্পিতভাবে পঙ্গু করে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে কারখানা দুটির পুঞ্জীভূত ঋণের পরিমাণ প্রায় নয়শো কোটি টাকায় গিয়ে ঠেকেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। তবে উৎপাদনে ফেরার জন্য প্রয়োজনীয় পুঁজির সংস্থান করা গেলে কারখানাগুলো আগের মতো ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হবে বলে উদ্যোক্তা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

অন্যদিকে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের দাবি ভিন্ন, ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে কোনো সুনির্দিষ্ট বা কার্যকর পরিকল্পনা উপস্থাপন করা হয়নি। ইসলামী ব্যাংকের স্থানীয় শাখার দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, বিভিন্ন সময়ে ঋণ পুনঃতফসিল করা হলেও নিয়মিত কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিশেষ সুযোগ থাকা সত্ত্বেও তা ব্যবহার করা হয়নি এবং নতুন করে কিস্তি পরিশোধেও বিলম্ব ঘটছে। সব মিলিয়ে একসময়ের গৌরবোজ্জ্বল এই দুই শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ এখন গভীর অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।