ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের কাউতলী এলাকায় মেয়ের বিয়ের বাজার করার জন্য নিয়ে আসা ৫০ হাজার টাকা হারিয়ে ফেলেছিলেন মো. তাজুল ইসলাম (৬৫)। পরে সেই টাকা রাস্তায় কুড়িয়ে পেয়ে তাকে ফেরত দিয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর ট্রাফিক পুলিশ।
রোববার (১৬ আগস্ট) বিকেলে কাউতলী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানায়, নবীনগর উপজেলার রসুলপুর গ্রামের বাসিন্দা তাজুল ইসলাম মেয়ের বিয়ের কেনাকাটার জন্য সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের কাউতলী মোড়ে আসেন। অটোরিকশা থেকে নেমে ভাড়া পরিশোধ করে চলে যাওয়ার সময় অসাবধানতাবশত তার কাছে থাকা ৫০ হাজার টাকার ব্যাগটি সড়কে পড়ে যায়। তবে বিষয়টি তিনি তখন বুঝতে পারেননি।
এদিকে কাউতলী এলাকায় দায়িত্ব পালনকালে সদর ট্রাফিক পুলিশের এটিএসআই নরুল আমিন রাস্তায় পড়ে থাকা একটি ব্যাগ দেখতে পান। ব্যাগটি খুলে ভেতরে ৫০ হাজার টাকা পাওয়া যায়। পরে বিষয়টি সার্জেন্ট মো. রাসেলুর রহমানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়।
কিছুক্ষণ পর টাকা হারানোর বিষয়টি টের পেয়ে তাজুল ইসলাম কাউতলী এলাকায় এসে ব্যাকুল হয়ে খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন। বিষয়টি জানতে পেরে পুলিশ সদস্যরা তার কাছে টাকার পরিমাণ, নোটের মূল্যমান ও ব্যাগের বিস্তারিত তথ্য জানতে চান। তার দেওয়া তথ্যের সঙ্গে উদ্ধার করা টাকার পুরোপুরি মিল পাওয়া যায়।
পরে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই ও তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে উপস্থিত লোকজনের সামনে ৫০০ টাকা মূল্যমানের ১০০টি নোটে থাকা মোট ৫০ হাজার টাকা তাজুল ইসলামের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়।
টাকা ফিরে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, মেয়ের বিয়ের বাজার করার জন্য গ্রাম থেকে শহরে এসেছিলাম। আমার সব টাকা রাস্তায় পড়ে গিয়েছিল, প্রথমে বুঝতে পারিনি। পরে দীর্ঘ সময় খোঁজাখুঁজি করে জানতে পারি, এক পুলিশ কর্মকর্তা আমার টাকা পেয়েছেন। তথ্য-প্রমাণ দেওয়ার পর তারা আমাকে টাকা বুঝিয়ে দিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, পৃথিবীতে এখনও সৎ মানুষ আছে। তাদের কারণেই আমি বড় বিপদ থেকে রক্ষা পেয়েছি। টাকা না পেলে মেয়ের বিয়ে দিতে অনেক কষ্ট হয়ে যেত।
ট্রাফিক পুলিশের সার্জেন্ট মো. রাসেলুর রহমান বলেন, টাকার ব্যাগটি পাওয়ার পর এটিএসআই নরুল আমিন বিষয়টি আমাকে জানান। পরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়। টাকা হারানোর বিষয়টি জানিয়ে তাজুল ইসলাম আমাদের কাছে এলে প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ যাচাই করে তার টাকা তাকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়।