মার্কিন চুক্তি আসলে চুক্তি নয়, এটা ট্রাম্পের আদেশনামা: আনু মুহাম্মদ

ইপেপার / প্রিন্ট ইপেপার / প্রিন্ট
০

রাজনীতি ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে हाल हीতে হওয়া বিভিন্ন চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন দেশের বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও শিক্ষক আনু মুহাম্মদ। তিনি সম্প্রতি এক বক্তব্যে স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেছেন যে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পাদিত এসব চুক্তিকে কোনোভাবেই ঐতিহ্যগত অর্থে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট চুক্তি বলা চলে না। বরং এগুলোকে মার্কিন প্রশাসনের একচ্ছত্র আদেশনামা বা তাদের রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের হাতিয়ার হিসেবে দেখছেন তিনি। সরকারের নীতিনির্ধারকদের কূটনৈতিক দুর্বলতার কারণেই এমন একপাক্ষিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন এই অর্থনীতিবিদ।

আনু মুহাম্মদ আরও বলেন, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে জনগণের মৌলিক অধিকার ও জাতীয় স্বার্থ চরম হুমকির মুখে পড়েছে। এই সংকটময় পরিস্থিতি থেকে জনসাধারণের মনোযোগ ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য একটি সুকৌশলী অপচেষ্টা চলছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। সরকারের ভেতরের নীতিনির্ধারকরা সমাজে কৃত্রিম বিভাজন ও অনৈক্য তৈরির মাধ্যমে মানুষের দৃষ্টি আসল সমস্যাগুলো থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে চাইছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এ ধরনের রাজনৈতিক কৌশল দেশের দীর্ঘমেয়াদী গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করছে বলে তাঁর ধারণা।

- Advertisement -

সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ও দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন শক্তির সঙ্গে দেশের স্বার্থ বিকিয়ে দিয়ে কোনো চুক্তি করা হলে তা জাতির জন্য মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনতে পারে। এ সময় তিনি চুক্তির আড়ালে থাকা বিভিন্ন শর্ত ও বিষয়গুলো জনসমক্ষে উন্মুক্ত করার জোরালো দাবি জানান। সরকারের কোনো সিদ্ধান্তই যেন দেশের সার্বভৌমত্ব ও জনগণের জীবনযাত্রাকে বিপন্ন না করে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বানও জানিয়েছেন এই প্রগতিশীল চিন্তাবিদ।

দেশের সচেতন নাগরিক সমাজ ও রাজনৈতিক দলগুলোকে এই অন্যায্য চুক্তির বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জাতীয় স্বার্থ রক্ষার লড়াইয়ে কোনো ধরনের আপস কাম্য নয়। জনগণের মৌলিক অধিকার সুনিশ্চিত করতে এবং দেশের সম্পদ সুরক্ষায় একটি শক্তিশালী ও স্বাধীন পররাষ্ট্র নীতি গড়ে তোলার ওপর তিনি বিশেষ জোর দেন। সরকারের এই ধরনের জনবিচ্ছিন্ন নীতিমালার বিরুদ্ধে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার তাগিদ দিয়ে তিনি তাঁর বক্তব্য শেষ করেন।

এই বিভাগের আরও সংবাদ