বুধবার ,  ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ||  ২২শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ -  শরৎকাল

বৈদেশিক ঋণের অর্থ সংরক্ষণে এফসি হিসাব খোলার সুযোগ

প্রকাশিত হয়েছে-

অর্থনীতি ডেস্ক: দেশের মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি বৈদেশিক ঋণের অর্থ নিরাপদে সংরক্ষণের জন্য যোগ্য বেসরকারি শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে বিশেষ সুবিধা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এ সংক্রান্ত একটি নতুন সার্কুলার জারি করা হয়েছে, যার মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রায় ফরেন কারেন্সি বা এফসি হিসাব খোলার পথ সুগম হলো। মূলত শিল্প খাতের আর্থিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে এবং বৈদেশিক লেনদেন প্রক্রিয়া সহজ করার উদ্দেশ্যেই এই নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

নতুন এই নির্দেশিকা অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কিছু প্রক্রিয়া ও শর্ত পূরণ সাপেক্ষে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো বিদেশি অর্থায়ন গ্রহণ করতে পারবে। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমোদন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বা বিডা-র ঋণ স্ক্রুটিনি কমিটি, সরাসরি কেন্দ্রীয় ব্যাংক অথবা নন-কনসেশনাল লোন সংক্রান্ত স্ট্যান্ডিং কমিটির অনুমোদন নিতে হবে। যথাযথ নিয়মের মাধ্যমেই কেবল এসব প্রতিষ্ঠান অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকে বৈদেশিক মুদ্রার হিসাব পরিচালনার সুযোগ পাবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, এই হিসাবগুলোতে জমাকৃত বৈদেশিক মুদ্রা বর্তমান আমদানি নীতি এবং বৈদেশিক মুদ্রা সংক্রান্ত বিধিমালা মেনে ব্যবহার করা যাবে। এর মাধ্যমে শিল্পের কাঁচামাল বা অন্যান্য প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানির এলসি বা ঋণপত্র খোলা সহজ হবে। পাশাপাশি, বৈদেশিক ঋণের অর্থ দিয়ে বাস্তবায়নাধীন বিভিন্ন প্রকল্পের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় প্রকৃত সেবামূল্য পরিশোধের কাজেও এই সংরক্ষিত তহবিল ব্যবহার করার সুযোগ থাকছে।

ব্যবসার সুবিধার্থে এই এফসি হিসাবের বৈদেশিক মুদ্রা প্রয়োজনবোধে টাকায় রূপান্তর করারও সুযোগ রাখা হয়েছে, যা স্থানীয় বাজার থেকে নানা ধরনের কাঁচামাল বা সেবা ক্রয়ে সহায়তা করবে। এছাড়া ব্যাংকার ও গ্রাহকের পারস্পরিক সম্পর্কের ভিত্তিতে হিসাবের স্থিতি অর্থের ওপর নির্ধারিত হারে সুদ বা মুনাফা অর্জিত হতে পারে। অন্যদিকে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বৈদেশিক ঋণের কিস্তি পরিশোধের বিষয়টি নিশ্চিত করতে এই হিসাবগুলোতে নির্দিষ্ট পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা জমা রাখার বিশেষ বিধান রাখা হয়েছে।

ঋণ চুক্তির শর্তে যদি কিস্তি পরিশোধের জন্য অর্থ আলাদা করে সংরক্ষণের বাধ্যবাধকতা থাকে, তবে ঋণের পুরো মেয়াদজুড়ে এই এফসি হিসাব চালু রাখা যাবে। তবে হিসাব ব্যবস্থাপনায় সুনির্দিষ্ট নিয়ম বজায় রাখতে পরবর্তী তিনটি কিস্তি পরিশোধের জন্য যে পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন, তার অতিরিক্ত কোনো স্থিতি এই হিসাবে রাখা যাবে না। সার্বিক এই উদ্যোগের ফলে দেশের বেসরকারি শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর বৈদেশিক ঋণ ব্যবস্থাপনা আরও স্বচ্ছ ও সুশৃঙ্খল হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।