বাহুবলে প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই বাণিজ্য মেলার প্রস্তুতি, আইনশৃঙ্খলা অবনতির আশঙ্কা
ইপেপার / প্রিন্ট
জাতীয় ডেস্ক: হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার মিরপুর এলাকায় প্রশাসনের কোনো ধরনের অনুমতি ছাড়াই একটি বাণিজ্য মেলা আয়োজনের তোড়জোড় শুরু হয়েছে। স্থানীয় একটি বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ঠিক সামনেই মেলার জন্য দোকানপাট ও বিভিন্ন অস্থায়ী স্থাপনা নির্মাণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন আয়োজকরা। তবে এই আয়োজনের নেপথ্যে কারা রয়েছেন কিংবা তাদের সুনির্দিষ্ট পরিচয় কী, সে বিষয়ে স্থানীয় পর্যায়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সাধারণ মানুষের ধারণা, ঢাকার এক ব্যক্তি এই মেলার আয়োজনের সঙ্গে জড়িত রয়েছেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মতো সংবেদনশীল এলাকার পাশে এমন আয়োজন চলতে থাকায় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
বাণিজ্য মেলার এই আয়োজনের বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে। বাহুবল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ ধরনের কোনো মেলা আয়োজনের অনুমতি দেওয়া হয়নি। প্রশাসনের কড়া বার্তা জানিয়ে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি বা মহল অবৈধভাবে মেলার আয়োজন করার চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এমনকি উপজেলা প্রশাসনের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজেও এ সংক্রান্ত একটি সতর্কবার্তা প্রকাশ করে জনসাধারণকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।
এদিকে প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও মেলার প্রস্তুতি অব্যাহত থাকায় স্থানীয় বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠন তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। বাহুবল উপজেলা খাদিমুল কোরআন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আব্দুল হাই বাহুবলী জানিয়েছেন, তারা এই অবৈধ মেলার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহলে যোগাযোগ করে নিজেদের জোরালো প্রতিবাদ জানিয়েছেন। মিরপুর তরুণ ওলামা পরিষদের সভাপতি মাওলানা মনিরুল ইসলাম মোস্তাক আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, মেলার নামে এই এলাকায় অশ্লীল নাচ-গান বা জুয়ার আসর বসালে তা এলাকার সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলার মারাত্মক অবনতি ঘটাতে পারে।
সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা গেছে, ব্যস্ততম মিরপুর এলাকার ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে অবৈধভাবে ঘর তোলার কাজ পুরোদমে চলছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, স্কুলের সামনে এমন মেলা বসলে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে বিঘ্ন ঘটার পাশাপাশি তীব্র যানজট ও শব্দদূষণের সৃষ্টি হবে। সার্বিক নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও কড়া নজরদারি রাখছে। বাহুবল মডেল থানার পুলিশ জানিয়েছে, এলাকায় কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর মতো কার্যক্রম বরদাস্ত করা হবে না। প্রশাসনের এমন কঠোর ভূমিকার পরও অবৈধ মেলা প্রস্তুতি বন্ধ না হওয়ায় স্থানীয় লোকজনের মধ্যে নানা আলোচনা ও শঙ্কা বিরাজ করছে।
