সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার ধুকুরিয়াবেড়া ইউনিয়নের ব্রাহ্মণ গ্রামে বাবা মায়ের রেখে যাওয়া অসহায় মেয়েকে রাজকীয় আয়োজনে বিয়ে দিলেন এলাকাবাসী ও সমাজকর্মী মামুন বিশ্বাস। গত পহেলা জুলাই মঙ্গলবার মা-বাবাহীন অসহায় মেয়ে মোছা. উর্মী খাতুনের (১৮) সঙ্গে একই গ্রামের আব্দুল কাইয়ুমের ছেলে মো. জামিল খানের (২২) এই বিয়ে সম্পন্ন হয়। যা নিয়ে উচ্ছ্বাসিত এলাকাবাসীও। আর এমন আয়োজনে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন উর্মীকে বড় করা নানা-নানী।উর্মীর বয়স যখন আট ঠিক তখনই আলাদা হয়ে যায় অসহায় এই মেয়েটির বাবা-মা। মেয়ের কথা না ভেবেই অন্যত্র বিয়ে করে শুরু করেন সংসার তারা। ৮বছর বয়সী উর্মীর জীবন সংগ্রাম শুরু হয় নানা-নানির ঘরে। যত বড় হতে থাকে ততই চিন্তা বাড়তে থাকে গরীব নানা-নানীর। নাতনির বিয়ে দিতে হবে, কোথায় পাবে বিয়ের খরচ। কপালে চিন্তার ভাজ রেখেই দিন দিন বড় হতে থাকে উর্মী । নানা-নানীর আর্থিক অবস্থা ভালো না হওয়ায় বিয়ের কোনো প্রস্তাব আসে না উর্মীর । এ অবস্থায় উর্মীর এক আত্মীয় ফেসবুকে একটি পোস্ট করেন। যেটি নজরে আসে সমাজকর্মী মামুন বিশ্বাসের।উর্মীর নানীর সঙ্গে এ ব্যাপারে কথা বলে নিজের ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন মামুন বিশ্বাস। পোস্টটি দেখে দেশ-বিদেশ থেকে অসংখ্য মানুষ সাড়া দেন এবং এক লাখ সাত হাজার টাকা সহযোগিতা করেন। সেই টাকায় সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার ধুকুরিয়াবেড়া ইউনিয়নের ব্রাহ্মণ গ্রামে রাজকীয়ভাবে ধুমধাম করে বিয়ে দেওয়া হয় উর্মীর । উর্মীর বিয়েতে কোনো কিছুর কমতি ছিল না। খাওয়া-দাওয়া থেকে শুরু করে ঘড় সংসারের আসবাবপত্র, পার্লারে নিয়ে নববধূর সাজে সাজানো হয় উর্মীকে। বিয়েতে সবজি, মুরগির রোস্ট, গরুর মাংস ও দই দিয়ে শতাধিক মানুষকে আপ্যায়ন করা হয়। কেনা হয় শাড়ি, হলুদের কাপড়, জুতা ও কসমেটিক্সসহ বিভিন্ন সামগ্রী। সেই সাথে একটি আলমারি, শোকেস, ড্রেসিং টেবিল, আলনা, নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস রাখার একটি বড় বাক্স ও একটি নতুন সংসার বাঁধতে যা যা প্রয়োজন সবই কিনে দেন মামুন বিশ্বাস ও তার সহযোগীরা।বিয়ের দিন বর বেশে উপস্থিত হন জামিল খান। বিয়ের গেইটে জামাইকে ঘড়ি পরিয়ে করা হয় বরণ ও নানান আপ্পায়ন। তখনও আরেকদিকে পাত্রী উর্মী খাতুনকে বিদায়ের অপেক্ষায় ভালবেসে আগলে রাখছে প্রতিবেশীরা। উল্লাশ ও নানা আয়োজন পুরো বিয়ে ঘিরে এক রাজকীয় পরিবেশের সৃষ্টি হয়। একটা অসহায় এতিম মেয়ের রাজকীয় বিয়ের আয়োজন অবাক করেছে এলাকাবাসীকে। তারাও করেছেন সাধ্যানুযায়ী সহযোগিতা।
এমন রাজকীয় আয়োজনে নাতনির বিয়ে দিতে পেরে দারুণ খুশি উর্মীর নানা-নানি। নাতনির জন্য চাইলেন দোয়াও । একদিকে অসহায় উর্মীকে বিয়ে করতে পেরে খুবই গর্বিত জানিয়ে দাম্পত্য জীবনে সুখী হতে সকলের নিকট দোয়া চাইলেন বর জামিল। কনে উর্মী বলছে, কোনোদিন চিন্তাও করি নাই এতবড় আয়োজনে বিয়ে হবে আমার।এমন বিয়ের আয়োজন নিয়ে সমাজকর্মী মামুন বিশ্বাস বলছেন, চেষ্টা করেছি কোনকিছুর কমতি না রেখে অন্যান্য সব বিয়ের অনুষ্ঠানের মতো আয়োজন করে বিয়ে দিতে। এটা একজন ভাই হিসেবে দায়িত্ব পালন করার চেষ্টা ছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।সমাজের অসহায় মানুষগুলোর জন্য এমন মামুন বিশ্বাসদের ভূমিকা অতুলনীয় বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। সমাজের নানান প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা এমন উর্মীদের জন্য এগিয়ে আসুক বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এমনটাই প্রত্যাশা সবার।