মঙ্গলবার ,  ১৩ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ||  ২৮শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ -  শরৎকাল

বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস আরও কমাল আইএমএফ, মূলে জ্বালানি ও ব্যাংক খাতে সংকট

প্রকাশিত হয়েছে-

অর্থনীতি ডেস্ক: অব্যাহত অর্থনৈতিক সংকট এবং নানামুখী অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জের মুখে চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস আরও কমিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বা আইএমএফ। থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অনুষ্ঠিত বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের বার্ষিক সম্মেলনের প্রাক্কালে প্রকাশিত সর্বশেষ ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক প্রতিবেদনে এই নতুন প্রাক্কলন তুলে ধরা হয়। এর আগে চলতি বছরের এপ্রিলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে সংস্থাটি প্রবৃদ্ধির হার ৪ দশমিক ৩ শতাংশ হতে পারে বলে ধারণা করেছিল, যা সংশোধন করে এখন মাত্র ৩ দশমিক ২ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশ্বব্যাংক ও এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক বা এডিবির সাম্প্রতিক পূর্বাভাসের চেয়েও আইএমএফের এই হিসাবটি বেশ কম।

আন্তর্জাতিক এই ঋণদাতা সংস্থার সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের অর্থনীতিতে কেবল প্রবৃদ্ধির হারই কমছে না, বরং মূল্যস্ফীতি আবারও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। আইএমএফের পূর্বাভাস বলছে, চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশে গড় মূল্যস্ফীতি বেড়ে ১০ দশমিক ৯ শতাংশে গিয়ে ঠেকতে পারে। এর আগে গত অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমে ৮ দশমিক ৭ শতাংশে নেমে এসেছিল, যদিও তার আগের অর্থবছরে তা ১০ শতাংশের ঘরে ছিল। দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের অন্যান্য দেশের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, ৭ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি ও ৪ দশমিক ৪ শতাংশ মূল্যস্ফীতি নিয়ে অঞ্চলের শীর্ষে রয়েছে ভারত। অন্যদিকে, সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং সর্বনিম্ন প্রবৃদ্ধির কারণে দক্ষিণ এশিয়ার প্রধান অর্থনীতিগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ বেশ পেছনের সারিতে অবস্থান করছে।

বিশ্বব্যাংক তাদের সাম্প্রতিক হালনাগাদ প্রতিবেদনে সতর্ক করে জানিয়েছে যে বাংলাদেশ টানা চতুর্থ বছরের মতো অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হ্রাসের বড় ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। ২০২১-২২ অর্থবছরে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ১ শতাংশে পৌঁছানোর পর থেকে প্রতি বছরই তা ধারাবাহিকভাবে কমছে। রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে পরিবর্তন আসলেও অর্থনীতিতে প্রত্যাশিত গতি ফিরে আসেনি, যার ফলে বিশ্বব্যাংক ও এডিবির মতো সংস্থাও তাদের আগের পূর্বাভাসগুলো দফায় দফায় কমাতে বাধ্য হয়েছে। অর্থনৈতিক এই গতিহ্রাসের পেছনে মূলত জ্বালানি সংকট, ব্যাংকিং খাতের ভঙ্গুরতা, বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহে স্থবিরতা এবং সরকারি বিনিয়োগ হ্রাসের মতো চারটি বড় কারণ দায়ী বলে মনে করছে সংস্থাটি।

প্রতিবেদনে চিহ্নিত কারণগুলোর মধ্যে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির অপ্রতুলতাকে শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার প্রধান অনুঘটক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি, আর্থিক খাতের দীর্ঘমেয়াদি দুর্বলতা এবং অসহনীয় খেলাপি ঋণের চাপ পুরো অর্থনীতিতে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। ব্যবসায়িক আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি এবং নানা সংকটের কারণে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে বহু বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গেছে। এছাড়া, কঠোর রাজস্ব সীমাবদ্ধতা এবং বড় প্রকল্প বাস্তবায়নে নানা জটিলতার কারণে সরকারি বিনিয়োগও ঐতিহাসিকভাবে সর্বনিম্ন স্তরে পৌঁছেছে। সবমিলিয়ে অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে অর্থনীতিকে পুনরায় ট্র্যাকে ফেরানোই এখন বড় এক পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।