মঙ্গলবার ,  ১৩ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ||  ২৮শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ -  শরৎকাল

প্লাস্টিক দূষণ রোধে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান পরিবেশমন্ত্রীর

প্রকাশিত হয়েছে-

জাতীয় ডেস্ক: প্লাস্টিক দূষণের মারাত্মক ক্ষতি থেকে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য রক্ষার্থে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে দেশের নীতিনির্ধারক ও বিশেষজ্ঞরা এই অভিমত ব্যক্ত করেন। অপ্রয়োজনীয় প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানোর পাশাপাশি এর পুনঃব্যবহার এবং বর্জ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ব্যবস্থা জোরদার করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়। টেকসই উন্নয়নের স্বার্থে প্রচলিত ব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটিয়ে চক্রাকার অর্থনীতির দিকে এগিয়ে যাওয়ার তাগিদ দেন বক্তারা।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়, ইউএনডিপি বাংলাদেশ এবং বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু। তিনি তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, প্লাস্টিক আমাদের জীবনযাত্রার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত থাকলেও এর অপরিকল্পিত ব্যবহার জলাভূমি, নদী ও সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য উৎপাদনের শুরু থেকে শুরু করে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পর্যন্ত প্রতিটি ধقে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করা আবশ্যক।

অনুষ্ঠানে পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বলেন যে, কেবল আনুষ্ঠানিক সভা বা সেমিনার করে প্লাস্টিক দূষণ রোধ করা সম্ভব নয়। এর প্রকৃত সফলতা নির্ভর করবে নীতিমালার কঠোর বাস্তবায়ন, নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহ এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িত শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নের ওপর। এছাড়া ইউএনডিপি বাংলাদেশের আবাসিক প্রতিনিধি স্টিফেন রড্রিগেজ প্লাস্টিক বর্জ্য থেকে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা এবং বায়ুদূষণের বিভিন্ন ক্ষতিকর দিক তুলে ধরে নিজ পরিবার থেকেই বর্জ্য আলাদা করার অভ্যাস গড়ার আহ্বান জানান।

পরিবেশবান্ধব অর্থনীতি গড়ে তোলার লক্ষ্যে অনুষ্ঠানে ন্যাশনাল প্লাস্টিক অ্যাকশন পার্টনারশিপ বা এনপিএপি বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিক শুভযাত্রা ঘোষণা করা হয়। এই বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে দেশের বিচ্ছিন্ন উদ্যোগগুলোকে একসূত্রে গেঁথে মাঠপর্যায়ে এর সঠিক বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, গবেষক এবং কূটনৈতিক মিশনের কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে প্লাস্টিক দূষণ রোধে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির ওপর জোর দেন।