সোমবার ,  ১২ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ||  ২৭শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ -  শরৎকাল

পীরগঞ্জে মুড়িকাটা পেঁয়াজ চাষে ব্যস্ত কৃষকেরা

প্রকাশিত হয়েছে-

জাতীয় ডেস্ক: আসন্ন শীতকালীন সময়ে পেঁয়াজের বাড়তি চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলায় এখন পুরোদমে চলছে মুড়িকাটা পেঁয়াজ চাষের প্রস্তুতি। স্থানীয় কৃষকেরা তাদের ক্ষেতগুলো প্রস্তুত করার পাশাপাশি ব্যস্ত সময় পার করছেন বীজ রোপণের কাজে। প্রতি বছর এই সময়ে এই বিশেষ পদ্ধতিতে পেঁয়াজ চাষ করে থাকেন স্থানীয় চাষিরা, যার ফলে বাজারে দেশি পেঁয়াজের সরবরাহ নিশ্চিত হয়। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং ভালো ফলনের আশায় কৃষকদের মধ্যে এক ধরনের উদ্দীপনা লক্ষ করা যাচ্ছে।

উপজেলা কৃষি অফিসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে এই অঞ্চলে মোট দুই হাজার ৫০ হেক্টর জমিতে মুড়িকাটা পেঁয়াজ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা সফলভাবে অর্জনে মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের সব ধরনের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা প্রদান করছে কৃষি বিভাগ। বিগত বছরগুলোতে এই পেঁয়াজ চাষ করে লাভবান হওয়ায় দিন দিন কৃষকদের মাঝে এর প্রতি আগ্রহ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

এদিকে চাষাবাদের শুরুর দিকে পেঁয়াজের বীজের দাম কিছুটা সহনশীল থাকায় কৃষকদের মনে স্বস্তি ফিরেছে। তবে কৃষকদের অভিযোগ, জমি প্রস্তুতের এই পর্যায়ে এসে সার সংগ্রহ করতে গিয়ে তাদের নানা ধরনের ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। অনেক কৃষক সময়মতো পর্যাপ্ত সার না পেয়ে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে সীমিত পরিমাণে সার সংগ্রহ করতে বাধ্য হচ্ছেন, যা তাদের আশানুরূপ আবাদে কিছুটা হলেও বাধা সৃষ্টি করছে। পৌর এলাকার কৃষক আব্দুস সামাদ ও রানু মিয়া জানিয়েছেন, প্রয়োজনের তুলনায় কম সার পাওয়ায় তারা ভবিষ্যৎ ফলন নিয়ে কিছুটা শঙ্কিত রয়েছেন।

অপরদিকে, সার সংকটের এই অভিযোগ পুরোপুরি নাকচ করে দিয়েছেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সুমন আহমেদ। তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, স্থানীয় বাজারে সারের কোনো ঘাটতি নেই এবং কৃষকদের এ নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। এছাড়া উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সুজন মিয়া জানিয়েছেন যে, মাঠ পর্যায়ের কৃষকেরা যাতে সফলভাবে পেঁয়াজ চাষ সম্পন্ন করতে পারেন, সেজন্য কৃষি বিভাগ সবসময় তাদের পাশে থেকে সার্বিক সহযোগিতা করে যাচ্ছে।