নেত্রকোনায় হাওরাঞ্চলের উন্নয়নে বিশেষ টাস্কফোর্স গঠনের আহ্বান
ইপেপার / প্রিন্ট
জাতীয় ডেস্ক: নেত্রকোনার হাওরাঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির জন্য সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের সমন্বয়ে একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল। সম্প্রতি জাতীয় সংসদ ভবনে নিজের কার্যালয়ে র্যামন ম্যাগসেসে পুরস্কার বিজয়ী বিশিষ্ট সমাজকর্মী এবং বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ফ্রেন্ডশিপের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক রুনা খানের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাতে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, হাওর অঞ্চলে মৎস্যসম্পদ, কৃষি, জীববৈচিত্র্য ও পর্যটন খাতের যে বিপুল প্রাকৃতিক সম্ভাবনা রয়েছে, সেগুলোকে কাজে লাগিয়ে পরিকল্পিত উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হলে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ভাগ্যে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা সম্ভব।
সাক্ষাৎকালে রুনা খানকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জনের জন্য আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়ে ডেপুটি স্পিকার বলেন যে, একজন বাংলাদেশি নাগরিকের এই ধরনের বিশ্বজোড়া সম্মান পুরো জাতির জন্যই এক গর্বের বিষয়। মানবকল্যাণ ও সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তনে নিবেদিতপ্রাণ ব্যক্তিদের এমন আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দেশের অন্যান্যদেরও জনকল্যাণমূলক কাজে অংশ নিতে উৎসাহিত করবে। এ সময় দেশের সামগ্রিক আর্থসামাজিক উন্নয়ন, মানবিক উদ্যোগ এবং সমাজে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রচেষ্টার নানা দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। আলোচনাকালে রুনা খানকে দেশের মূল্যবান সম্পদ ও ভবিষ্যৎ হিসেবে অভিহিত করে তাঁর কাজের ভূয়সী প্রশংসা করা হয়।
হাওরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও জীবনসংগ্রামের চিত্র তুলে ধরে ডেপুটি স্পিকার জানান যে, এখনো এই এলাকার মানুষ শিক্ষা, সুচিকিৎসা, যোগাযোগ ও কর্মসংস্থানের মতো মৌলিক অধিকার থেকে অনেকাংশেই বঞ্চিত রয়েছেন। যোগাযোগ ব্যবস্থার চরম দুর্গতির কারণে এখানকার সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা অত্যন্ত দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে, যা নিরসনে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে স্থানীয় মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে একটি স্যাটেলাইট হাসপাতাল স্থাপন এবং জরুরি পরিস্থিতিতে গর্ভবতী নারী, শিশু ও গুরুতর রোগীদের দ্রুত হাসপাতালে স্থানান্তরের জন্য নৌ-অ্যাম্বুলেন্স বা ওয়াটার অ্যাম্বুলেন্স চালুর ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি।
এ অঞ্চলের জলমহাল ব্যবস্থাপনা ও শিক্ষার বেহাল দশা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ডেপুটি স্পিকার বলেন যে, সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাবে একসময়ের খাদ্য স্বয়ংসম্পূর্ণ এই অঞ্চলের মানুষ জীবিকার তাগিদে অন্যত্র গিয়ে রিকশাচালনার মতো পেশা বেছে নিতে বাধ্য হচ্ছেন। জলমহালগুলোর ইজারা প্রক্রিয়ায় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের পরিবর্তে প্রকৃত জেলেদের অধিকার ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি, যা তাঁদের পুষ্টি ও খাদ্যনিরাপত্তা বাড়াতে সহায়তা করবে। এছাড়া, অনেক শিশুকে প্রতিদিন দুই থেকে তিন মাইল পথ পাড়ি দিয়ে বিদ্যালয়ে যেতে হয় উল্লেখ করে তিনি হাওর এলাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও যাতায়াত ব্যবস্থা সহজ করার দাবি জানান।
ডেপুটি স্পিকারের এই মহৎ উদ্যোগ ও চিন্তাভাবনার প্রশংসা করে সমাজকর্মী রুনা খান হাওরের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সম্মিলিতভাবে কাজ করার ওপর জোর দেন। তিনি জানান যে, হাওরাঞ্চলের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তাঁর প্রতিষ্ঠান ফ্রেন্ডশিপের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করা হবে। স্থানীয় জনসাধারণের প্রকৃত চাহিদা ও বাস্তবতাকে প্রাধান্য দিয়ে ডেপুটি স্পিকারসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে ভবিষ্যৎ উন্নয়নমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়নের দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
