ধর্ম আলাদা হতে পারে, রাষ্ট্র সবার: প্রধানমন্ত্রী

ইপেপার / প্রিন্ট ইপেপার / প্রিন্ট
১

জাতীয় ডেস্ক: সব ধর্মের মানুষকে নিয়ে একসঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সম্প্রতি শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপনের অংশ হিসেবে রাজধানীর ঐতিহাসিক ঢাকেশ্বরী মন্দির পরিদর্শন করেন তিনি। সেখানে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে তিনি দেশের প্রতিটি নাগরিকের সমান অধিকার ও নিরাপত্তার কথা দৃঢ়ভাবে পুনর্ব্যক্ত করেন। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেন যে, ধর্মের বৈচিত্র্য থাকলেও রাষ্ট্র সবার জন্য সমান এবং প্রত্যেকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের প্রধান দায়িত্ব।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস স্মরণ করেন। তিনি বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় কেউ কারো ধর্মীয় পরিচয় জানতে চাননি, বরং সবাই মিলে দেশের মুক্তির জন্য লড়াই করেছিলেন। একইভাবে দেশের গণতন্ত্র রক্ষা এবং ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারের রাজনৈতিক আন্দোলনেও মানুষ ধর্মীয় ভেদাভেদ ভুলে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে রাজপথে নেমেছিল। দেশের সংকটময় মুহূর্তে সব নাগরিকের এই সম্মিলিত অংশগ্রহণই জাতীয় ঐক্যের প্রকৃত শক্তি বলে তিনি মন্তব্য করেন।

- Advertisement -

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ত্যাগের কথা স্মরণ করে সরকারপ্রধান জানান, সেই ঐতিহাসিক আন্দোলনেও বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষ জীবন উৎসর্গ করেছেন। সম্প্রতি ওসমানী উদ্যানে জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, সেখানে হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান—সব ধর্মের শহীদের রক্ত মিশে আছে। মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার এই সংগ্রামে সবার আত্মত্যাগ জাতি চিরকাল কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় দলমত নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, মানুষের ভাগ্যোন্নয়ন ঘটলে পুরো জাতি উপকৃত হয় এবং কোনো নাগরিকের ভালো বা খারাপ থাকা তার ধর্মীয় পরিচয়ের ওপর নির্ভর করে না। দিনশেষে সবাই এ দেশের সন্তান এবং বাংলাদেশি পরিচয়টিই সবচেয়ে বড় পরিচয় বলে তিনি মন্তব্য করেন। পূজা উপলক্ষে দেশের সব সনাতন ধর্মাবলম্বীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি এই উৎসবকে একটি বড় মিলনমেলা হিসেবে বর্ণনা করেন।

এই বিভাগের আরও সংবাদ