জাতীয় ডেস্ক: আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা এবং টানা পাঁচ দিনের ছুটির সময়ে সাধারণ মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম সম্প্রতি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ সভা পরিচালনা করেন। এই ছুটির দিনগুলোতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ঘরমুখী ও ভ্রমণপ্রত্যাশী মানুষের প্রচণ্ড চাপ তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাই সব ধরনের যোগাযোগ মাধ্যমকে পুরোপুরি সচল রেখে যাত্রীদের যাত্রা স্বস্তিদায়ক করার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।
রাজধানীর সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত ওই সভায় তিন খাতের মন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও সচিবরা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া বিভিন্ন সরকারি সংস্থার প্রধানের পাশাপাশি বাস মালিক সমিতি এবং হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের প্রতিনিধিরাও সেখানে অংশ নেন। বৈঠকে মূলত পূজার আনন্দ যাতে কোনোভাবেই জনদুর্ভোগ বা যাতায়াত সংকটের কারণে ম্লান না হয়, সে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা করা হয়। সংশ্লিষ্ট সবাই যেন পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে নিজ নিজ দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করেন, সে বিষয়ে সভায় কঠোর তাগিদ দেওয়া হয়।
ছুটির সময়ে অতিরিক্ত যাত্রীচাপ সামাল দিতে এবং যাত্রীদের কাছ থেকে যেন অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা না হয়, সে বিষয়ে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। বিশেষ করে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের পক্ষ থেকে বিশেষ বাস সার্ভিস চালু করার পাশাপাশি যেকোনো ধরনের অনিয়ম রোধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার কথা বলা হয়েছে। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ সেতুর টোল প্লাজাগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পর্যাপ্ত সদস্য মোতায়েন করা হবে, যাতে কোনো দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি না হয়। ঢাকা সংলগ্ন প্রধান সড়কগুলো দ্রুত সংস্কার করে চলাচলের উপযোগী করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
রেলপথ ও নৌপথের যাত্রীদের সুবিধা নিশ্চিত করতে বিশেষ কিছু পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে বলে সভায় জানানো হয়। যাত্রীচাপের কথা মাথায় রেখে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার রুটে একাধিক বিশেষ ট্রেন চালানোর পাশাপাশি অন্যান্য রুটেও অতিরিক্ত কোচ যুক্ত করা হবে। টিকিটের কালোবাজারি প্রতিরোধে কঠোর নজরদারি বজায় রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, পূজা শেষে প্রতিমা বিসর্জনের সময় সম্ভাব্য জনসমাগম ও যানজট এড়াতে আগে থেকেই সুনির্দিষ্ট ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।