শিক্ষা ডেস্ক: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল থেকে নিষিদ্ধ ঘোষিত নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার এক সাবেক নেতাকে আটক করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থী ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। সম্প্রতি রোববারের ওই ঘটনায় অর্ক সাহা নামের ওই সাবেক ছাত্রনেতাকে আটক করার পর শাহবাগ থানা-পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সমাজসেবা সম্পাদক এবং ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। সরকার পরিবর্তনের পর সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হলেও তিনি গোপনে ক্যাম্পাসে যাতায়াত করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, রোববারের বিকেলে জগন্নাথ হলের একটি ক্যান্টিনে খাবার খাওয়ার সময় ওই সাবেক নেতাকে চিনতে পারেন উপস্থিত শিক্ষার্থীরা। সঙ্গে সঙ্গেই তাকে ঘিরে ধরে পাকড়াও করা হয় এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রক্টরিয়াল টিম ও হল কর্তৃপক্ষকে খবর দেওয়া হয়। পরে প্রক্টরিয়াল টিম এবং হলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তাব্যক্তিরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং পুলিশ ডেকে তার হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন।
জগন্নাথ হলের প্রাধ্যক্ষ দেবাশীষ পাল গণমাধ্যমকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, ছাত্রলীগের পদধারী কোনো শিক্ষার্থীর জন্যই হলে বর্তমানে কোনো আসন বরাদ্দ নেই এবং ইতিপূর্বেই তাদের সবার সিট বাতিল করা হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, অভিযুক্ত অর্ক সাহা মাঝে মাঝে হলে লুকিয়ে যাতায়াত করতেন এবং শিক্ষার্থীরা তাকে দেখতে পেয়ে আটক করেন। হলে প্রবিধান অমান্য করে এমন কেউ লুকিয়ে অবস্থান করছে কি না, তা নিয়ে হল প্রশাসন এখন অত্যন্ত সতর্ক রয়েছে এবং পুলিশ তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
এদিকে জগন্নাথ হল ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ধ্রুব রায় দাবি করেছেন যে, অভিযুক্ত নেতা দীর্ঘদিন ধরে রাতের বেলায় হলে গোপনে অবস্থান করছিলেন বলে তাদের কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য ছিল। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, সম্প্রতি জগন্নাথ হলের সামনে সংঘটিত ককটেল বিস্ফোরণের মতো ঘটনার সঙ্গেও অর্ক সাহার সরাসরি সম্পৃক্ততা থাকতে পারে। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং হলের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসন আরও কঠোর পদক্ষেপ নেবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।