সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জ্বালানি তেলের সংকটের গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর রাজশাহীর বিভিন্ন পেট্রল পাম্পে মোটরসাইকেল চালকদের উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাত ৮টার পর থেকেই নগরীর অধিকাংশ পাম্পে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে জ্বালানি তেল সংগ্রহ করতে দেখা যায় গ্রাহকদের। তবে জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই বলে জানিয়েছে পেট্রল পাম্প মালিক সমিতি ও জেলা প্রশাসন।
নগরীর বিভিন্ন পেট্রল পাম্প ঘুরে দেখা যায়, প্রতিদিনের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি মোটরসাইকেল চালক তেল নিতে এসেছেন। হঠাৎ বেড়ে যাওয়া চাপের কারণে অনেককেই দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হয়েছে।
লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা কয়েকজন মোটরসাইকেল চালক জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জ্বালানি তেলের সংকট দেখা দিতে পারে, এমন তথ্য ছড়িয়ে পড়ার পরই তারা তেল নিতে পাম্পে ছুটে আসেন। তবে পাম্পে এসে দীর্ঘ লাইন দেখে অনেকেই বুঝতে পারেন, আতঙ্ক থেকেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
তাদের ভাষ্য, প্রতিদিনের মতো প্রয়োজনীয় পরিমাণ তেল নেওয়ার উদ্দেশ্যেই এসেছিলেন, কিন্তু গুজবের কারণে অস্বাভাবিক ভিড় তৈরি হয়েছে।
রাজশাহী পেট্রল পাম্প মালিক সমিতির সভাপতি মমিনুল হক বলেন, রাত ৮টার পর হঠাৎ করেই সব পাম্পে গ্রাহকের চাপ বেড়ে যায়। কিন্তু রাজশাহীতে জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই। পর্যাপ্ত পরিমাণে তেল সরবরাহ হচ্ছে। আজও আমাদের পাম্পে তেলের ট্যাংকার এসেছে।
পরিস্থিতি নিয়ে মঙ্গলবার রাতে জরুরি জনসচেতনতামূলক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে রাজশাহী জেলা প্রশাসন। এতে জানানো হয়, জেলায় জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং সরবরাহ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক। তাই কোনো ধরনের গুজব বা বিভ্রান্তিকর তথ্যের ভিত্তিতে অতিরিক্ত জ্বালানি তেল ক্রয় বা মজুত না করার জন্য সবাইকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, প্রয়োজন অনুযায়ী জ্বালানি তেল ক্রয় করে স্বাভাবিক বাজারব্যবস্থা বজায় রাখতে জনসাধারণের সহযোগিতা প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরের সমন্বয়ে বাজার পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও তদারকি করা হচ্ছে।
এ ছাড়া কেউ কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি বা মজুদদারির মাধ্যমে বাজার অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেছে জেলা প্রশাসন।
এদিকে প্রশাসন, পাম্প মালিক ও সংশ্লিষ্টরা সবাইকে গুজবে কান না দিয়ে কেবল প্রয়োজন অনুযায়ী জ্বালানি তেল কেনার আহ্বান জানিয়েছেন।