সোমবার ,  ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ||  ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ -  হেমন্তকাল

জার্মানি ও চেক প্রজাতন্ত্র সফর করলেন বিমান বাহিনী প্রধান

প্রকাশিত হয়েছে-

জাতীয় ডেস্ক: বাংলাদেশ বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন সম্প্রতি ইউরোপের দুই দেশ জার্মানি ও চেক প্রজাতন্ত্র সফর করেছেন। দুই দেশের সঙ্গে সামরিক ও পেশাগত সম্পর্ক জোরদার করার পাশাপাশি আধুনিক সামরিক প্রযুক্তি নিয়ে অভিজ্ঞতা বিনিময়ই ছিল এই উচ্চপর্যায়ের সফরের মূল উদ্দেশ্য। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) পক্ষ থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। এই সফরের মাধ্যমে বন্ধুভাবাপন্ন দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্ব আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সফরের প্রথম পর্যায়ে জার্মানির উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান গ্রোব এয়ারক্রাফট এসই-এর আমন্ত্রণে দেশটি সফর করেন বিমান বাহিনী প্রধান। এ সময় তিনি টুসেনহাউজেন-মাটসিসে অবস্থিত প্রতিষ্ঠানটির প্রধান উৎপাদন কেন্দ্র ঘুরে দেখেন এবং কারিগরি বিষয় নিয়ে আয়োজিত কর্ম-অধিবেশনে অংশ নেন। সেখানে প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়, যা বাংলাদেশ বিমান বাহিনীতে বর্তমানে ব্যবহৃত গ্রোব উড়োজাহাজের অপারেশনাল সক্ষমতা ও কার্যকারিতা দীর্ঘস্থায়ী করতে বড় ভূমিকা রাখবে। এছাড়া তিনি জার্মানির রোথেনবাখ আন ডেয়ার পেগনিৎজে অবস্থিত ডিহল ডিফেন্সের এমএসএএন উৎপাদন কেন্দ্রও পরিদর্শন করেন।

জার্মানি সফর শেষে চেক প্রজাতন্ত্রের বিমান বাহিনীর কমান্ডার এবং ফিউচার এয়ার ফোর্স কনফারেন্সের চেয়ারম্যানের আমন্ত্রণে প্রাগে যান বিমান বাহিনী প্রধান। সেখানে অনুষ্ঠিত ‘ফিউচার এয়ার ফোর্স কনফারেন্স’-এর চতুর্থ আসরে যোগ দিয়ে তিনি আধুনিক যুদ্ধপ্রযুক্তির বিভিন্ন দিক নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন। ওই সম্মেলনে বহুমুখী হালকা যুদ্ধবিমান, অত্যাধুনিক সেন্সর, ইলেকট্রনিক যুদ্ধপ্রযুক্তি, সশস্ত্র চালকবিহীন আকাশযান তথা ড্রোন এবং ড্রোন প্রতিরোধী প্রযুক্তির ব্যবহার ও কৌশলগত দিকগুলো প্রাধান্য পায়। পাশাপাশি অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর বিমান বাহিনীর আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ এবং বর্তমান বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়।

আইএসপিআর জানিয়েছে, বিমান বাহিনী প্রধানের এই দ্বিপক্ষীয় সফর বাংলাদেশের সঙ্গে জার্মানি ও চেক প্রজাতন্ত্রের পারস্পরিক কূটনৈতিক ও সামরিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করবে। ভবিষ্যতে এই দেশগুলোর সঙ্গে প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং পেশাগত উৎকর্ষ সাধনের পরিধি আরও প্রসারিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই ধরনের সফর দেশের বিমান বাহিনীর আধুনিকায়ন এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধির চলমান প্রক্রিয়াকে আরও ত্বরান্বিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।