রাজনীতি ডেস্ক: আসন্ন নতুন বছরের জানুয়ারি মাসে ইউনিয়ন পরিষদসহ স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করার প্রাথমিক পরিকল্পনা থাকলেও তা নিয়ে একধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পুরোপুরি প্রস্তুত নয় বলে মত দেওয়া হয়, যা নির্বাচন সময়মতো আয়োজনের পথে প্রধান বাধা হিসেবে দেখা দিয়েছে। এছাড়া নির্বাচনের আগে প্রশাসনিক জটিলতা দূর করা এবং নিজেদের সাংগঠনিক প্রস্তুতি গুছিয়ে নিতে কিছুটা সময় প্রয়োজন বলে মনে করছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। এসব নানা সমীকরণ ও বাস্তবতার মধ্যেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনের দিনক্ষণ এবং সময়সূচি চূড়ান্ত করতে বৈঠকে বসেছে নির্বাচন কমিশন। ফলে আজকের এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পরই মূলত স্পষ্ট হতে পারে যে নির্ধারিত সময়েই ভোটগ্রহণ শুরু হচ্ছে কি না।
এর আগে জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়সংর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে পর্যাপ্ত সময় দিয়ে তারপর তফসিল ঘোষণার অনুরোধ জানানো হয়। কমিটির সভাপতি একেএম সেলিম রেজা হাবিব বৈঠকে উল্লেখ করেন যে, জাতীয় নির্বাচনের তুলনায় স্থানীয় পর্যায়ের নির্বাচনগুলো অধিক মাত্রায় জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে থাকে। কারণ এসব ভোটে প্রতিটি ওয়ার্ডে একাধিক প্রার্থী এবং তাদের কর্মী-সমর্থকদের ব্যাপক উপস্থিতি থাকে, যা নিয়ন্ত্রণ করা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। তবে কিছু বাড়তি সময় নেওয়া হলেও আগামী বছরের প্রথম প্রান্তিক বা শুরুর দিকেই নির্বাচন সম্পন্ন করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। পাশাপাশি বিগত সরকারের সময়ে নেওয়া অপ্রয়োজনীয় ও দুর্নীতির শিকার প্রকল্পগুলোর তদন্ত করার সুপারিশও করেছে এই সংসদীয় কমিটি।
অন্যদিকে, বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সম্প্রতি দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সময় ও সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনে দলীয় প্রতীক না থাকায় একই দল থেকে একাধিক প্রার্থী অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা স্থানীয় পর্যায়ে ভোট বিভক্তি ও অভ্যন্তরীণ কোন্দল বাড়িয়ে দিতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে ভোটের আগেই সম্ভাব্য সব বিরোধ আলোচনার মাধ্যমে মীমাংসা করে একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ পরিবেশ নিশ্চিত করতে চায় দলটি। এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে চলা অচলাবস্থা নিরসনে এবং কার্যকর কাঠামো ফিরিয়ে আনতে সাংগঠনিক প্রস্তুতির জন্য আরও সময় চেয়েছেন দলটির নেতারা। একই সঙ্গে সরকারের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব অর্পণ ছাড়া নির্বাচন কমিশন নিজে থেকে ভোটের তারিখ ঘোষণা করতে পারে কি না, তা নিয়েও কিছু নেতার মনে সংশয় রয়েছে।
এদিকে সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সময়সূচি নির্ধারণসহ স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে আলোচনার জন্য নির্বাচন কমিশন একটি গুরুত্বপূর্ণ সভা আহ্বান করেছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সভাপতিত্বে এই বৈঠকে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে এবং ভোটের দিনক্ষণ চূড়ান্ত করার বিষয়টি এজেন্ডার শীর্ষে রাখা হয়েছে। এছাড়া জাতীয় পরিচয়পত্র মুদ্রণ, প্রশাসনিক ক্ষমতা অর্পণ, বকেয়া বিল পরিশোধ এবং ‘জাতীয় নির্বাচন পদক নীতিমালা ২০২৫’-এর খসড়া অনুমোদনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোও আজকের বৈঠকে আলোচিত হচ্ছে। সব মিলিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পূর্ণ প্রস্তুতি, রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ সামর্থ্য এবং সরকারের সবুজ সংকেতের ওপরই নির্ভর করছে আগামী জানুয়ারি মাসে স্থানীয় সরকার নির্বাচন মাঠে গড়ানো বা না গড়ানো।