ফিচার ডেস্ক: প্রকৃতির সৌন্দর্য ফুটিয়ে তুলতে ফটোগ্রাফির জুড়ি মেলা ভার, আর তরুণ প্রজন্মের অনেকেই এখন ঝুঁকেছেন বন্যপ্রাণী ও পাখির ছবি তোলার দিকে। ঢাকার নটর ডেম কলেজের একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী পৃথু ইম্মানুয়েল গমেজ পড়াশোনার পাশাপাশি নিজের শখ পূরণে ঘুরে বেড়াচ্ছেন দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে। কলেজটির ফটোগ্রাফি ক্লাবের এই সদস্য দীর্ঘ দিন ধরে ক্যামেরাবন্দী করে চলেছেন আমাদের চারপাশের চিরচেনা পাখিগুলোকে। তাঁর ক্যামেরার লেন্স দিয়ে দেখা এমনই সাতটি পাখির ভিন্নধর্মী মুহূর্ত ও আচরণ সম্প্রতি বেশ নজর কেড়েছে প্রকৃতিপ্রেমীদের।
এই আলোকচিত্র সংগ্রহের শুরুতেই রয়েছে উজ্জ্বল সবুজ শরীর ও লাল মাথার এক আকর্ষণীয় পাখি নীলগলা বসন্তবাউরি। ঘন পাতার আড়ালে লুকিয়ে থাকতে পছন্দ করা এই পাখিটি প্রায়শই ডালপালা ধরে উল্টো হয়ে ঝুলে থাকে, যা ক্যামেরায় ধারণ করা বেশ মুন্সিয়ানার ব্যাপার। অন্যদিকে, হালকা নীল রঙের নীলকান্তমণি বা নীল চুটকি মূলত শীতকালে আমাদের দেশের বনে পরিযায়ী অতিথি হিসেবে আসে। চমৎকার এই পাখিটি বাতাসে উড়ে বেড়ানোর সময় নিখুঁতভাবে বিভিন্ন কীটপতঙ্গ শিকার করতে পটু।
আমাদের প্রকৃতিতে মিষ্টি সুরে গান গাওয়া পাখিদের মধ্যে ফটিকজল অন্যতম একটি পরিচিত নাম। প্রজনন ঋতুতে পুরুষ ফটিকজল পাখিরা সঙ্গীকে কাছে টানতে আকাশে অদ্ভুত কায়দায় ডিগবাজি দেয় এবং শরীর ফুলিয়ে গোল হয়ে বসে গান গায়। এছাড়া সামাজিক স্বভাবের সাহসী পাখি ঝুঁটি শালিক বা জংলি শালিক দলবদ্ধভাবে থাকতে ভালোবাসে এবং মানুষের কথা কিংবা অন্য পাখির ডাক হুবহু অনুকরণ করার অদ্ভুত ক্ষমতা রাখে।
আকাশে তিরের বেগে ছুটে চলা সবুজ সুইচোরা বা বাঁশপাতি মূলত মৌমাছি ও ফড়িং জাতীয় পোকা শিকার করে বেঁচে থাকে। এদের লেজের মাঝে সুতার মতো সরু দুটি পালক থাকে যা আকাশে দ্রুত ওড়ার সময় দিক পরিবর্তনে সাহায্য করে। পাশাপাশি, আমাদের জাতীয় পাখি দোয়েল গ্রাম ও শহরের আনাচে-কানাচে চঞ্চলভাবে ঘুরে বেড়ায় এবং বসার সময় তাদের চমৎকার লেজটি ওপরের দিকে উঁচু করে রাখে। ঢাকার অদূরে পুবাইল এলাকায় তোলা একটি ছবিতে দেখা মেলে শিকার ধরে আকাশে ওড়া মেছো ইগল বা কুড়া পাখির, যা এই তরুণ আলোকচিত্রীর মুনশিয়ানারই সাক্ষ্য দেয়।