চুয়েটের অচলাবস্থা ২৮ দিনে, নিরসনে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি গঠনের নির্দেশ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের
ইপেপার / প্রিন্ট
শিক্ষা ডেস্ক: প্রায় এক মাস ধরে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান তীব্র সংকট ও স্থবিরতা কাটাতে উদ্যোগ নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সম্প্রতি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ও নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠনের জন্য বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনকে (ইউজিসি) সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই অচলাবস্থা থেকে বেরিয়ে এসে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক একাডেমিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার ও টেকসই সমাধান খোঁজার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।
গত ২১ সেপ্টেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি প্রজ্ঞামন জারির মধ্য দিয়ে মূলত এই সংকটের সূত্রপাত ঘটেছিল, যেখানে উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে অপসারণ করে কুয়েটের অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে এবং সাবেক উপাচার্যকে স্বপদে পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীরা তাৎক্ষণিকভাবে জোরালো আন্দোলন শুরু করেন। এর ফলশ্রুতিতে ২২ সেপ্টেম্বর থেকে ক্যাম্পাসে সর্বাত্মক শাটডাউন কর্মসূচি পালিত হয় এবং প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়।
শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনের সঙ্গে পরবর্তীতে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের একটি অংশও কর্মবিরতি ও অসহযোগ আন্দোলনের মাধ্যমে সংহতি প্রকাশ করেন। এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্ত ক্লাস, পরীক্ষাসহ যাবতীয় দাপ্তরিক কার্যক্রম পুরোপুরি থমকে যায়। এমনকি গত ১২ অক্টোবর নতুন উপাচার্য ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে গেলে আন্দোলনকারীরা তাঁকে প্রশাসনিক ভবনে প্রায় ৩০ ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপে তাঁকে উদ্ধার করা হলেও এই ঘটনায় পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয়ে ওঠে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের এই দীর্ঘমেয়াদী সংকটের কারণে সবচেয়ে বড় ক্ষতির মুখে পড়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা, যাদের একাধিক বিভাগের চূড়ান্ত পরীক্ষাও স্থগিত করা হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ১৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত চুয়েটের ১৪৫তম জরুরি সিন্ডিকেট সভায় সংকট উত্তরণে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করে একটি নিরপেক্ষ পরামর্শক দল গঠনের সুপারিশ পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়। এরই ধারাবাহিকতায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় ইউজিসির মাধ্যমে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, যা এই অচলাবস্থা নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
