শনিবার ,  ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ||  ১লা কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ -  হেমন্তকাল

কোনো সেক্টর থেকেই চাঁদাবাজির সুযোগ দেওয়া হবে না

প্রকাশিত হয়েছে-

জাতীয় ডেস্ক: চট্টগ্রাম-১৪ আসনের সংসদ সদস্য জসিম উদ্দিন আহমেদ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে উত্তর সাতকানিয়ার কোনো বাণিজ্যিক সেক্টরেই চাঁদাবাজির বিন্দুমাত্র সুযোগ দেওয়া হবে না। সম্প্রতি কেরানিহাট প্রগতিশীল ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেডের উদ্যোগে আয়োজিত উচ্ছেদ অভিযান-পরবর্তী এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তিনি বলেন, এলাকার সাধারণ ও দরিদ্র মানুষ অত্যন্ত নিরীহ এবং কেরানিহাট তাদের জীবিকা নির্বাহের অন্যতম প্রধান অবলম্বন। এখানে ব্যবসা করে খাওয়া ব্যবসায়ী, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, হকার কিংবা পরিবহন খাতের সঙ্গে জড়িত কোনো শ্রমিকের ওপর অন্যায় হতে দেওয়া হবে না এবং কেউ চাঁদাবাজির চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাণিজ্যকেন্দ্রটির গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধান অতিথি বলেন, কেরানিহাট দক্ষিণ চট্টগ্রামের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। পর্যটন শহর কক্সবাজার এবং পার্বত্য জেলা বান্দরবানে যাতায়াতের প্রধান পথ হওয়ায় এই এলাকায় প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ ও যানবাহনের বিপুল সমাগম ঘটে। তবে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ স্থাপনা গড়ে তোলা, ফুটপাত ও প্রধান সড়ক দখল করে রাখার কারণে এখানে তীব্র যানজট লেগেই থাকত। এর ফলে সাধারণ পথচারী, দূরপাল্লার যাত্রী এবং ব্যবসায়ীদের প্রতিনিয়ত চরম দুর্ভোগ পোহাতে হতো যা নিরসনে এই এলাকাকে পরিচ্ছন্ন ও সুশৃঙ্খল করা জরুরি হয়ে পড়েছিল।

যানজট নিরসন এবং জনস্বার্থ রক্ষার্থে পরিচালিত উচ্ছেদ অভিযানের কথা উল্লেখ করে সংসদ সদস্য বলেন, কেরানিহাটকে একটি আধুনিক ও যানজটমুক্ত বাণিজ্যকেন্দ্রে রূপান্তর করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে এই অভিযান সফল করতে হলে প্রশাসন ও সাধারণ মানুষকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে এবং একে অপরের সহযোগিতায় কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে তিনি হকার ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জীবিকার বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীলতার সঙ্গে বিবেচনার কথা জানান, যাতে তাদের রুটি-রুজিতে কোনো নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে।

ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মাস্টার জয়নাল আবেদীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ সভায় স্থানীয় প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সাতকানিয়ার সহকারী কমিশনার (ভূমি) সোহেলী নোশীন প্রত্যাশা, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল আলিম, উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সদস্য কামরুল হাসান তালুকদারসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও ব্যবসায়ী নেতারা। বক্তারা সবাই মিলে কেরানিহাটের আইনশৃঙ্খলার উন্নতি সাধন, ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা এবং একটি উন্নত ব্যবসায়িক পরিবেশ গড়ে তোলার পক্ষে নিজেদের জোরালো অভিমত ব্যক্ত করেন।