মঙ্গলবার ,  ১৩ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ||  ২৮শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ -  শরৎকাল

এলপিজির সংকট বাড়ছেই, মাঠের চিত্র পায়নি সরকার

প্রকাশিত হয়েছে-

অর্থনীতি ডেস্ক: দেশে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস বা এলপিজির সংকট তীব্র আকার ধারণ করলেও এর প্রকৃত কারণ ও মাঠের চিত্র জানতে পারছে না জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়। গত কিছুদিন আগে বাজার পরিস্থিতি ও দামের বিষয়ে জেলা প্রশাসকদের কাছে জরুরি ভিত্তিতে তথ্য চাওয়া হলেও নির্ধারিত সময়ে তার কোনো সাড়া মেলেনি। সরকারের নীতিনির্ধারক ও সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতির কারণে এই সংকট দিন দিন আরও ঘনীভূত হচ্ছে বলে মনে করছেন খাত সংশ্লিষ্টরা। সরকারি কাগজপত্রে পর্যাপ্ত আমদানির কথা বলা হলেও সাধারণ মানুষ নির্ধারিত মূল্যে রান্নার এই অতিপ্রয়োজনীয় জ্বালানি কিনতে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে জ্বালানি বিভাগ ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদারকি বাড়ানোর কথা বলা হলেও মাঠপর্যায়ে তার কোনো কার্যকর প্রভাব দেখা যাচ্ছে না। জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন বা বিইআরসি তাদের ওপর অর্পিত আইনি ক্ষমতা যথাযথভাবে প্রয়োগ করতে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে পুরো বাজারটি একশ্রেণির অসাধু সিন্ডিকেট ও আমদানিকারকদের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে, যারা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অতিরিক্ত মুনাফা লুটে নিচ্ছে। বিগত কয়েক মাসে দফায় দফায় দাম বাড়িয়েও বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে না পারায় সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের কার্যকারিতা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার সাধারণ ভোক্তাদের অভিযোগ, সরকার নির্ধারিত ১ হাজার ৮৩৭ টাকার বারো কেজির সিলিন্ডার কোথাও আড়াই হাজার টাকার কমে পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রে দোকানে অগ্রিম টাকা জমা দিয়েও সিলিন্ডার না পাওয়ার ঘটনা ঘটছে, যার ফলে অনেক পরিবার রান্নার খরচ কমাতে বাধ্য হয়ে খাবারের পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছেন। এদিকে তথ্য তল্লাশির নামে জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের হয়রানি করা হচ্ছে অভিযোগ তুলে এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি দেশজুড়ে দোকান বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে। এই কর্মসূচি বাস্তবায়িত হলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বহুগুণ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

জ্বালানি খাতের এই অস্থিরতা দূর করতে এবং জনদুর্ভোগ লাঘবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ইতিমধ্যে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে মাঠপর্যায়ের প্রশাসন ও ব্যবসায়ীদের পারস্পরিক দ্বন্দ্বের কারণে সংকট নিরসনে দ্রুত কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কেবল নির্দেশিকা জারি বা নামমাত্র সভা করে এই অস্থিতিশীল বাজার নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। এর জন্য নীতিনির্ধারক থেকে শুরু করে মাঠপর্যায়ের ব্যবসায়ী পর্যন্ত সব পক্ষকে নিয়ে একটি কঠোর ও সমন্বিত নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিকল্প নেই।