জামায়াতের আকিদা নিয়ে আলেমদের অবস্থান গণঅভ্যুত্থানের পর নতুন নয়। কিন্তু রাজনৈতিক ফায়দা নিতে গিয়ে ইদানীং জামায়াত আর গণঅভ্যুত্থানকে সমার্থক বানানোর অপচেষ্টা হচ্ছে। এ কারণে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে জামায়াতকে সমর্থনের সমস্যা নিয়ে আলেমদেরও তাদের জায়গা থেকে আলোচনার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।
এতদিন এসব কথাবার্তা বেশিরভাগ কর্মী-সমর্থক লেভেলে সীমাবদ্ধ ছিল। কিছু জোকার বক্তা যদিও মিম্বর দখলের হুমকি দিয়েছে। কিন্তু আজকে জামায়াতের যেই জায়গা থেকে “খতিব পলায়ন”-এর বক্তব্য এসেছে, তার প্রতিবাদ হওয়া জরুরি।
জামায়াতের যেই এমপি আজকে বায়তুল মোকাররমের খতিবকে হটানোর হুমকি দিলেন, সেই এমপিকে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই— শোকরানা মাহফিলে আওয়ামী খতিব রুহুল আমীন ‘কওমি জননী’ বলায় সেই খতিবের বিপক্ষে আমরা কওমির ছেলেরাই দাঁড়িয়েছিলাম। এগুলো গণঅভ্যুত্থানেরও বহু আগের ঘটনা। এর কারণে জেল-জুলুম, হামলা-মামলার শিকার হয়েছি আমরা।
আর সংসদের জায়গা পেয়ে আপনারা যারা এখন বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি আব্দুল মালেক সাহেবকে ধমকাতে আসেন, গণঅভ্যুত্থানের পর গুপ্ত অবস্থান থেকে প্রকাশ্যে আসা আপনাদের বহু নেতার রাজনৈতিক পরিচয়ও আমরা জানতাম না। খুঁজতে গেলে ফ্যাসিস্টের দলের কমিটিতে নাম পাওয়া যায় অনেকের।
জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি আব্দুল মালেক সাহেবকে নিয়ে জামায়াতের কর্মী-সমর্থকদের বিষোদগার তাদেরকে শুধু অজনপ্রিয়ই করেছে। এই বাস্তবতা বোঝার চেষ্টা করুন। এমপি হয়েও যদি জনবিচ্ছিন্ন বক্তব্য দিতে থাকেন, তাহলে আওয়ামী লীগের পথেই যেতে হবে।