শনিবার ,  ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ||  ৮ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ -  হেমন্তকাল

এমপির বক্তব্যে ইউএনওর হাততালি, সমালোচনার মুখে বললেন ‘ভাইরাল হতে চাই’

প্রকাশিত হয়েছে-

জাতীয় ডেস্ক: ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলায় একটি রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সংসদ সদস্যের বক্তব্যের সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বা ইউএনওর হাততালি দেওয়ার দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের সংসদ সদস্য জাহিদুর রহমান সেনগাঁও ইউনিয়নের আমতলী শ্রী শ্রী দুর্গা মন্দির পরিদর্শনে যান এবং সেখানে একটি জনসমাবেশে বক্তব্য রাখেন। ওই বক্তব্যে তিনি আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপির এক নেতার নাম উল্লেখ করে তাকে বিজয়ী করার জন্য উপস্থিত জনতার প্রতি প্রকাশ্য আহ্বান জানান। সরকারি বিধিমালা ভঙ্গ করে একজন জনপ্রতিনিধির এমন দলীয় প্রচারণায় একজন দায়িত্বশীল প্রশাসনিক কর্মকর্তার উপস্থিত থাকা এবং তা সমর্থন করার বিষয়টি পীরগঞ্জজুড়ে তীব্র আলোচনা ও বিতর্কের জন্ম দেয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া দুই মিনিটের বেশি দীর্ঘ ওই ভিডিও ক্লিপটিতে দেখা যায়, সংসদ সদস্যের রাজনৈতিক বক্তব্যের বিভিন্ন পর্যায়ে পীরগঞ্জের ইউএনও গোলাম রব্বানী সরদার স্বতঃস্ফূর্তভাবে হাততালি দিয়ে তার বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করছেন। একজন সরকারি কর্মকর্তার এমন পক্ষপাতমূলক আচরণ নিরপেক্ষতার প্রশ্নকে সামনে নিয়ে আসে এবং সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করে। এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে ইউএনও গোলাম রব্বানী সরদার গণমাধ্যমকে বলেন, তিনি মূলত বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের আদর্শ ধারণ করেন এবং নিজের অবস্থানকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করেন। এমনকি তিনি সাংবাদিককে উদ্দেশ্য করে বলেন যে, তাকে যেন পীরগঞ্জের বিএনপির একজন নেতা হিসেবে সংবাদে উল্লেখ করা হয়।

নিজের বিতর্কিত মন্তব্যের রেশ টেনে ইউএনও গোলাম রব্বানী সরদার সাংবাদিকদের আরও বলেন, তিনি যে সরকারের আমলেই দায়িত্ব পালন করুন না কেন, সরকারি দলের আদর্শই তার একমাত্র রাজনৈতিক দর্শন। এ সময় তিনি কিছুটা উসকানিমূলক ভঙ্গিতে সংবাদকর্মীদের বলেন যে, ঘটনার শুধু ওই বিশেষ অংশটুকু যেন কেটে প্রচার করা হয় যাতে তিনি সারা দেশে ভাইরাল হতে পারেন। প্রশাসনিক ক্ষমতার সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন যে স্থানীয় সংসদ সদস্যের নির্দেশনা মেনেই তাকে দাপ্তরিক সব কাজ পরিচালনা করতে হয় এবং এর বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ প্রশাসনের কারও নেই। তবে তার এই আত্মপক্ষ সমর্থনমূলক বক্তব্য জনমনে ক্ষোভ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

এদিকে প্রশাসনের একজন কর্মকর্তার প্রকাশ্য এমন রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বের কড়া সমালোচনা করেছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ও বিশিষ্ট নাগরিকেরা। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির ঠাকুরগাঁও জেলা সাধারণ সম্পাদক আবু সায়েম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সংসদ সদস্য যখন একটি বিশেষ দলের নির্বাচনী প্রার্থী ঘোষণা করছেন, তখন ইউএনও কর্তৃক অতিউৎসাহী হয়ে হাততালি দিয়ে তা সমর্থন করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সাধারণ মানুষও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্ন তুলেছেন যে, প্রশাসনের শীর্ষস্থানীয় কর্তাব্যক্তিরাই যদি এভাবে দলীয় আনুগত্য প্রদর্শন করেন, তবে সাধারণ জনগণ নিরপেক্ষ বিচার বা সেবা পেতে কার শরণাপন্ন হবে।