বুধবার ,  ১৪ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ||  ২৯শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ -  শরৎকাল

উচ্চশিক্ষিত বেকারত্ব ও শ্রমবাজারে লুকিয়ে থাকা বাস্তবতা

প্রকাশিত হয়েছে-

অর্থনীতি ডেস্ক: বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষার হার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে শিক্ষিত যুবকদের বেকারত্বের হার। দেশের বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক তরুণ-তরুণী ডিগ্রি অর্জন করে শ্রমবাজারে প্রবেশ করছেন। কিন্তু তাদের সেই বিশাল অংশের বিপরীতে চাকরির বাজারের পরিধি সেভাবে প্রসারিত হয়নি। ফলে কর্মসংস্থানের তীব্র সংকটে পড়ে লাখ লাখ উচ্চশিক্ষিত তরুণ বেকার থাকতে বাধ্য হচ্ছেন, যা দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিভিন্ন পরিসংখ্যান ও বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে প্রতিবছর সাত লাখের বেশি শিক্ষার্থী স্নাতক ডিগ্রি সম্পন্ন করে বের হন। এর বিপরীতে সরকারি ও বেসরকারি মিলে বাজারে মাত্র তিন লাখের মতো নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হয়ে থাকে। চাহিদার তুলনায় চাকরির এই বিশাল ঘাটতির কারণে প্রতিবছর প্রায় চার লাখের মতো নতুন স্নাতক বেকার সমাজের মূল স্রোত থেকে ছিটকে পড়ছেন। এই বেহাল দশা বেকার যুবকদের পাশাপাশি তাদের পরিবার ও সমাজকেও এক ধরনের হতাশা ও অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

শিক্ষিত বেকারত্ব বৃদ্ধির পেছনে কেবল পদের অভাবই একমাত্র কারণ নয়, এর পেছনে রয়েছে শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে বাস্তব শ্রমবাজারের চাহিদার বড় ধরনের অমিল। বর্তমান বিশ্বায়নের যুগে চাকরিদাতারা যে ধরনের প্রায়োগিক দক্ষতা ও প্রযুক্তিগত জ্ঞান প্রত্যাশা করেন, অনেক শিক্ষার্থীই তা অর্জন করতে ব্যর্থ হচ্ছেন। সনাতন মুখস্থ বিদ্যাকেন্দ্রিক পড়াশোনা তরুণদের আধুনিক কর্মক্ষেত্রের উপযোগী করে গড়ে তুলতে পারছে না। এর ফলে প্রার্থীরা কাঙ্ক্ষিত যোগ্যতা ও দক্ষতার অভাবে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছেন এবং শূন্য পদগুলো অপূর্ণ থেকে যাচ্ছে।

দক্ষতার এই ঘাটতির পাশাপাশি তথ্য ও যোগাযোগ সংযোগের অভাবও সংকটকে আরও ঘনীভূত করে তুলছে। অনেক সময় প্রার্থীরা সঠিক সময়ে সঠিক চাকরির খবর বা ক্যারিয়ার গাইডেন্স পান না, যা তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ আরও সীমিত করে দেয়। এই জটিল পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য নীতিনির্ধারক ও শিক্ষাবিদরা শিক্ষাব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং কারিকুলাম পরিবর্তনের ওপর জোর দিচ্ছেন। একই সঙ্গে উদ্যোক্তা তৈরি ও কর্মসংস্থানমুখী প্রশিক্ষণের পরিধি না বাড়ালে এই বেকারত্ব সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।