মঙ্গলবার ,  ১১ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ||  ২৭শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ -  বর্ষাকাল

আলিয়া মাদ্রাসা ক্যাম্পাসে সহাবস্থানে একমত ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির

প্রকাশিত হয়েছে-

হল দখলকে কেন্দ্র করে ৪ আগস্ট দফায় দফায় সংঘর্ষে জড়ায় ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির। টানা কয়েকদিন ধরে চলতে থাকে উত্তেজনা। অবশেষে রোববার রাতে দুই দলের সংসদ সদস্য, কেন্দ্রীয় নেতা ও পুলিশের মধ্যস্থতায় আলোচনায় বসে দুপক্ষ। বৈঠক শেষে ক্যাম্পাসে সহাবস্থানের বিষয়ে একমত হয় দুই ছাত্র সংগঠন।

 

লালবাগ বিভাগের উপকমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেন, দুই পক্ষই ক্যাম্পাসে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান করবে। এই প্রেক্ষিতেই বর্তমানে মাদ্রাসায় স্বাভাবিক অবস্থা বিরাজ করছে। আমরা আশা করছি প্রত্যেকেই তার নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করার মাধ্যমে আইনশৃংখলা পরিস্থিতি সমুন্নত রাখতে সহায়তা করবে।

 

তবে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের সংঘাতের ক্ষত এখনও স্পষ্ট আলিয়া মাদ্রাসার হলগুলোতে। এরইমধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় ক্যাম্পাসে ফিরতে শুরু করেছে শিক্ষার্থীরা। ক্যাম্পাসে আবারও স্বাভাবিক কার্যক্রম ফিরিয়ে আনার কথা বলছে ছাত্রদল নেতারা।

 

একজন ছাত্রদল নেতা বলেন, প্রিন্সিপালরা আহতের বিষয়ে আমাদের দিকে অভিযোগের তীর ছুড়ছে। কিন্তু উল্টো আমাদেরকে ধাওয়া দিয়ে শিক্ষাবোর্ডের ওখানে নিয়ে গেছে। আরেক ছাত্রদল নেতা বলেন, পেছনের সবকিছুর ইতি টেনে সামনের দিকে কিভাবে আমরা সবাই মিলেমিশে থাকতে পারি, সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশে থাকতে পারি এ বিষয়েই সিদ্ধান্ত হয়েছে।

 

ছাত্রদলের আরেক নেতা বলেন, ভবিষ্যতে যেন আর কোনো বিশৃঙ্খলা পরিবেশ সৃষ্টি না হয় এজন্য আমাদের বড় ভাই আমাদের শাসন করে গেছে। ছাত্রশিবিরের লোকজনও তাদেরকে আমাদের সাথে একসাথে থাকার কথা বলে গেছে।

 

অন্যদিকে, শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা, হলের সমস্যা সমাধানসহ বিভিন্ন বিষয়ে ১১ দফা দাবি জানিয়েছে ছাত্রশিবির।

 

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের প্রচার সম্পাদক এসএম ফরহাদ বলেন, সিট কে পাবে কে পাবে না – এটা কে শিবির করে, কে ছাত্রদল করে এই বেসিসে হবে না। সরাসরি মেরিট বেসিসে হলে যে নীতিমালা অনুযায়ী সিট পাবার কথা সে নীতিমালা অনুযায়ী সিট পাবে। অ-শিক্ষার্থী, অনিয়মিত শিক্ষার্থী কিংবা যুবদল কিংবা সিনিয়র কেউ হলে উঠে যাবার যে প্রবণতা বা কালচার, এই ধরনের কোনো কালচার এখানে না থাকার ব্যাপারে স্ট্রংলি বলেছি।

 

সংঘাতের পর সমঝোতায় এলেও দুই সংগঠনের মধ্যে অবিশ্বাস পুরোপুরি কাটেনি। এখন এই সহাবস্থান কতটা স্থায়ী হয়, সেদিকেই নজর সবার।