রবিবার ,  ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ||  ৯ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ -  হেমন্তকাল

অস্বাস্থ্যকর খাবার চেনাতে মোড়কে সতর্কবার্তা, দেশে প্রথম প্রচারণা শুরু

প্রকাশিত হয়েছে-

স্বাস্থ্য ডেস্ক: অতিরিক্ত মাত্রায় চিনি, লবণ ও সম্পৃক্ত চর্বিযুক্ত অতিপ্রক্রিয়াজাত খাদ্য ও পানীয়র ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে দেশে প্রথমবারের মতো একটি বড় পরিসরের প্রচারণা শুরু হয়েছে। জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই মাসমিডিয়া ক্যাম্পেইনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। প্রজ্ঞা, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন, ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন, ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্টসহ বেশ কয়েকটি বিশিষ্ট সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে এই সচেতনতামূলক কার্যক্রমটি পরিচালিত হচ্ছে। মূলত প্যাকেটজাত খাবারের মোড়কের সামনে স্পষ্ট সতর্কবার্তা বা ফ্রন্ট-অব-প্যাকেজ লেবেলিং চালুর বিষয়ে সরকারি প্রচেষ্টাকে ত্বরান্বিত করা এবং জনসমর্থন তৈরি করাই এই প্রচারণার মূল উদ্দেশ্য।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জানানো হয়, আগামী দুই মাস ধরে টেলিভিশন, রেডিও, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন পোর্টাল এবং প্রিন্ট মিডিয়ায় এই সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন চলবে। ভিডিও বিজ্ঞাপন, অডিও ক্লিপ ও স্থিরচিত্রের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের সামনে প্যাকেটজাত খাবারে লুকিয়ে থাকা অস্বাস্থ্যকর উপাদানের ঝুঁকি তুলে ধরা হবে। বিশেষ করে শিশু ও কিশোরদের মধ্যে এসব খাবারের আকর্ষণ কমাতে এবং প্রাপ্তবয়স্কদের সঠিক পুষ্টিজ্ঞান অর্জনে সহায়তা করতে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এর মাধ্যমে ভোক্তারা খুব সহজেই বুঝতে পারবেন কোন খাবারে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর মাত্রায় লবণ, চিনি বা চর্বি রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা অনুষ্ঠানে জানান, দেশে বর্তমানে মোট মৃত্যুর প্রায় ৭১ শতাংশের জন্য দায়ী বিভিন্ন অসংক্রামক রোগ, যার মধ্যে হৃদরোগ ও ডায়াবেটিসের প্রকোপ সবচেয়ে বেশি। পাশাপাশি দেশের প্রায় এক তৃতীয়াংশ মানুষ অতিরিক্ত ওজন ও স্থূলতার সমস্যায় ভুগছেন, যা মূলত অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের ফল। মোড়কের সামনের অংশে থাকা সতর্কতামূলক লেবেল ভোক্তাদের দ্রুত তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে এবং অস্বাস্থ্যকর পণ্য কেনা থেকে বিরত রাখে। বৈশ্বিকভাবে এটি একটি স্বীকৃত ও কার্যকর পদ্ধতি হলেও বাংলাদেশে এটি চালুর ক্ষেত্রে সচেতনতা ও নীতিগত সহায়তার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. শফিকুল ইসলাম জানান, জনগণের জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে তাদের সংস্থা কাজ করে যাচ্ছে। অস্বাস্থ্যকর মোড়কজাত খাদ্যের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সতর্কবার্তা বা এফওপিএল সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় প্রবিধানমালা প্রণয়নের কাজ ইতিমধ্যে চলমান রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বক্তারাও দ্রুত এই বিধিমালা বাস্তবায়নের দাবি জানান, যাতে দেশবাসীকে মারাত্মক সব স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে রক্ষা করা সম্ভব হয়।