শনিবার ,  ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ||  ২৫শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ -  শরৎকাল

অপরাধীরা ‘জিয়ার সৈনিক’ স্লোগানে পরিচয় দিয়ে লাভ নেই: এসআরবি

প্রকাশিত হয়েছে-

অপরাধ ডেস্ক: রাজধানীর বাংলাদেশ-কোরিয়া কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিদেশে চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণা করা চক্রের বারো সদস্যকে আটক করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন বা এসআরবি-৪। দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রতারক চক্র সাধারণ মানুষের সঙ্গে বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেওয়ার মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে আসছিল। ভুক্তভোগী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও কর্তৃপক্ষের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে এই যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয় এবং পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আটক ব্যক্তিদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এমন কঠোর পদক্ষেপে এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে এবং প্রতারক চক্রের মাঝে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।

অভিযানের পর আটক হওয়া ব্যক্তিদের কয়েকজন নিজেদের বাঁচাতে রাজনৈতিক স্লোগান ব্যবহার করেন এবং বিভিন্ন প্রভাবশালী কর্মকর্তার সঙ্গে সখ্যের কথা দাবি করার চেষ্টা করেন। তবে এসআরবি-৪-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হাফিজুর রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে অপরাধ করার পর এ ধরনের পরিচয় দিয়ে ছাড় পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তিনি বলেন যে আইন লঙ্ঘনকারীদের মুখে বিভিন্ন রাজনৈতিক স্লোগান বা কর্মকর্তার নাম শোনা গেলেও এসআরবির কাছে এসব কৌশল কোনো কাজে আসবে না। অপরাধী হিসেবে হাতেনাতে ধরা পড়ার পর তাদের আইনের মুখোমুখি হতে হয়েছে এবং ভ্রাম্যমাণ আদালত তাদের অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী যথাযথ শাস্তি প্রদান করেছেন।

অভিযান চলাকালীন আটক ব্যক্তিদের কেউ কেউ আবার পাসপোর্ট অফিসকে দালালদের মূল আস্তানা হিসেবে উল্লেখ করেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ফোন রেকর্ড পরীক্ষার দাবি তোলেন। এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসআরবি কর্মকর্তা জানান যে আটকদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এ ধরনের অভিযোগের সপক্ষে কোনো নির্দিষ্ট নাম বা সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি। মূলত নিজেদের অপরাধের দায় এড়াতে এবং বাঁচার তাগিদেই তারা বিভিন্ন সময় ভিন্ন ভিন্ন বিভ্রান্তিকর তথ্য ও অভিযোগ তোলার চেষ্টা করছেন বলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মনে করছে। তবে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য বা প্রমাণ মিললে সেই অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পথ খোলা রয়েছে বলে জানানো হয়।

তদন্তে বেরিয়ে এসেছে যে প্রতারক চক্রের সদস্যরা বাংলাদেশ-কোরিয়া কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং বোয়েসেলের নাম ভাঙিয়ে সাধারণ প্রার্থীদের কাছ থেকে চল্লিশ হাজার থেকে শুরু করে দশ লাখ টাকা পর্যন্ত আদায় করত। অথচ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে তারা কখনোই বিদেশে কর্মী পাঠানোর জন্য কোনো মধ্যস্বত্বভোগী বা ফি ব্যবহার করে না। মূলত এই সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রমের সুযোগ নিয়ে প্রতারক চক্রটি সাধারণ চাকরিপ্রত্যাশীদের নানাভাবে জিম্মি করে টাকা আত্মসাৎ করে আসছিল। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে সাতজনকে কারাদণ্ড এবং বাকি পাঁচজনকে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে নিশ্চিত করা হয়।